সীমান্ত থেকে শহর পর্যন্ত: মাদকের বিরুদ্ধে মাদানী মজলিস বাংলাদেশের দাওয়াতি সংগ্রাম - দিগন্ত জার্নাল

সীমান্ত থেকে শহর পর্যন্ত: মাদকের বিরুদ্ধে মাদানী মজলিস বাংলাদেশের দাওয়াতি সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বৃহস্পতিবার,  (মে ২০২৫) বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার আজ যেমন এক বিপর্যয়ের রূপ নিচ্ছে, তেমনি এর বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন সচেতনতা গড়ে তুলছে কিছু সমাজনির্ভর সংগঠন। এরই একটি শক্তিশালী নাম— মাদানী মজলিস বাংলাদেশ, যারা দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী দাওয়াতি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

অরাজনৈতিক এই সংগঠনটি রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সচেতনতামূলক সভা, প্রচারপত্র বিতরণ, সেমিনার ও যুবসমাজের মাঝে জনমত গঠনের কাজ করে আসছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যক্রম দিন দিন আরও বিস্তৃত ও গতিশীল হচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীর রামপুরা, মগবাজার ও সেগুনবাগিচা এলাকায় আয়োজিত সভাগুলিতে তারা তুলে ধরেন যে, মাদক কেবল একজনকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও জাতিকেই ধ্বংস করে দেয়। সংগঠনটির সভাপতি শায়খ মুফতী হাফীজুদ্দীন সাহেবের নেতৃত্বে তারা ‘মাদকাসক্তদের ঘৃণা নয়, সহমর্মিতা’ এই মানবিক নীতির ভিত্তিতে মাদকবিরোধী আন্দোলনকে এগিয়ে নিচ্ছেন।

জাতীয় পর্যায়ে সংগঠনটির কিছু প্রস্তাব ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইমাম-খতিব, জনপ্রতিনিধি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিশন গঠন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার ও মদের দোকানগুলোর কার্যক্রম কঠোর নজরদারিতে আনা, এবং মাদকাসক্ত তরুণদের পুনর্বাসনে ধর্মীয় ও মনোচিকিৎসামূলক পরামর্শ সেবা চালু করা।

শুধু শহর নয়, এই দাওয়াতি লড়াই গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ইসলামী জলসায় মাদকবিরোধী বক্তব্য প্রদান, যুব সমাজকে নিয়ে ইসলামিক প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং পারিবারিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে মাদকবিরোধী অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।

এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার সর্বশেষ সংযোজন ঘটে গতকাল, যখন সংগঠনটির সভাপতি শায়খ হাফীজুদ্দীন সাহেব ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার সূর্যপুর গ্রামে সফর করেন। সেখানে শতাধিক যুবকের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, “মাদক প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তবাসী যুবকদেরও সজাগ ও প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া উচিত। কারণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো দিয়েই মাদক চোরাচালান সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা যেন কোনোভাবে মাদকের প্রবেশ বা বাণিজ্যের সহযোগী না হন, বরং বিজিবির মতোই সতর্ক থেকে আপনার ঈমান, পরিবার, সমাজ ও দেশ রক্ষা করেন।”

এই সংগঠনের কার্যক্রম নিছক প্রতিক্রিয়ামূলক নয়; এটি এক দীর্ঘমেয়াদি নৈতিক ও দাওয়াতি আন্দোলন। শহর থেকে শুরু করে সীমান্ত পর্যন্ত তারা গড়ে তুলছে এমন এক বলয়, যেখানে মানুষ কেবল মাদককে ঘৃণা করবে না, বরং তার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াবে।

“আপনারা হোন বিজিবির মতো প্রহরী”—এই আহ্বানই যেন বদলে দিচ্ছে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যুব সমাজকে। মাদানী মজলিস বাংলাদেশের এই মানবিক আন্দোলন ক্রমেই মানুষকে আপন করে নিচ্ছে—নিরব দাওয়াতের মাধ্যমে জাগিয়ে তুলছে বিবেকের মশাল।

an adbox will go here