যমুনার সামনে বিক্ষোভকারীদের জু’মার আদায় বিকেলে বড় জমায়েতের ঘোষণা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শুক্রবার, (৯ মে ২০২৫) ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার সামনে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেছেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা মাওলানা সানাউল্লাহ।
এ সময় যমুনার মূল ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন এনসিপি, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইনকিলাব মঞ্চ, চরমোনাইপন্থী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে নানা স্লোগান দেন এবং হাতে ব্যানার-ফেস্টুন ধারণ করেন।
জুমার নামাজের পর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এক ঘোষণায় জানান, বিকেলে আরও বড় জমায়েত হবে যমুনার পাশের মিন্টু রোডে পানির ফোয়ারার সামনে। তার ভাষায়, “আজকের দিনটি হবে নির্ণায়ক, জনসমুদ্র দেখবে দেশ।”
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে যমুনার সামনে অবস্থান নেয়া শুরু করে এনসিপি নেতাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় শিবির, ইনকিলাব মঞ্চ,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম, চরমোনাই এবং অন্যান্য ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠনের সদস্যরা। আন্দোলনকারীরা বলেন, “আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
এদিকে যমুনার সামনে দিনভর চলমান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, “বৃহস্পতিবার রাত থেকেই পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। যেহেতু দুপুরে বড় জমায়েতের ঘোষণা রয়েছে, তাই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যমুনার সামনের রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে।”
সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও যমুনার আশপাশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আন্দোলনের দিকে নজর রাখছে গোয়েন্দা সংস্থাসমূহও।