তারেক রহমানের অভিযোগ: আ.লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার - দিগন্ত জার্নাল

তারেক রহমানের অভিযোগ: আ.লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

শুক্রবার, (৯ মে ২০২৫) রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়ী বার্ক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ইস্টার পুনর্মিলনী ও শুভেচ্ছা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নানা ইস্যু সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যে ফাটল ধরানোর অপচেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে তারা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টায় লিপ্ত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “জনগণের মনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—অন্তর্বর্তী সরকার কি সত্যিই তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে? আমরা দেখছি, কিছু কর্মকাণ্ডে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে একদিকে পলাতক স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের নিরাপদে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনরত দলগুলোর ঐক্যে ফাটল ধরানোর অপপ্রয়াস চলছে।”

এসময় তিনি গুম হওয়া ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা সাজিদুল ইসলাম সুমনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “২০১৩ সালের ডিসেম্বরে র‌্যাব সদস্যরা সুমনকে গুম করে। আজও তার কোনো হদিস নেই। অথচ এখন তার বোনের বাসায় পুলিশি অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশাসন বলছে তারা কিছু জানে না, আবার সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশ ছাড়লেও অন্তর্বর্তী সরকার নাকি জানত না। তাহলে তারা জানে কী?”

তারেক রহমান বলেন, “যে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই, সেখানে কেউই নিরাপদ নয়—নাগরিক হোন বা সংখ্যালঘু। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই কেবল রাষ্ট্রে আইনের শাসন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী স্বৈরাচার সরকার সংবিধানকে নিজেদের দলীয় সংবিধানে পরিণত করেছিল। সেই বাস্তবতায় আমরা মনে করি, সংবিধানের মূল চেতনা অক্ষুণ্ন রেখে সময়োপযোগী সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে বিএনপি ইতোমধ্যে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করেছে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জন গমেজ। বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, আব্দুস সালাম, একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনসহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ।

an adbox will go here