মিথ্যাচারকারীদের সঙ্গে বৈঠক রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল—ইঞ্জি. থোয়াই চিং মং শাক - দিগন্ত জার্নাল

মিথ্যাচারকারীদের সঙ্গে বৈঠক রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল—ইঞ্জি. থোয়াই চিং মং শাক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মঙ্গলবার, (১৩ মে ২০২৫) পার্বত্য চট্টগ্রাম সংকট কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের সরাসরি অংশ—এই বক্তব্য দিয়ে র‌্যাডিকেল অ্যান্টি-ওয়ার স্ট্রাকচার অ্যান্ড রিসার্চ অ্যালায়েন্স (রাওসা)-এর অন্যতম মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক বলেছেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ভারতীয় প্রভাবে সংঘটিত হচ্ছে এক সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত, যা কোনোভাবেই জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতার স্বার্থে মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারকে একটি অলিখিত ও অদৃশ্য আন্তর্জাতিক জোট ‘
‘ইউপিডিএফ’-এর সঙ্গে আলোচনায় বসানো হচ্ছে, যা ‘জাতীয় ঐক্যতা কমিশন’-এর নামে প্রচার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বিদেশি প্রভাবে রাষ্ট্রবিরোধী চক্রের অংশ। তার ভাষায়, “যে গোষ্ঠীগুলোর হাতে সেনাসদস্য ও সাধারণ মানুষের রক্ত লেগে আছে, তাদের সঙ্গে বৈঠক করা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার সামিল। এটি মিথ্যাচারকারীদের পক্ষপাত প্রতিষ্ঠার প্রয়াস।”

অনুষ্ঠানে অন্যান্য আলোচকরা বলেন, “১৯৭১ সাল থেকে আজ ২০২৫—এই দীর্ঘ সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম কখনোই একটি স্বাভাবিক এলাকা হয়ে ওঠেনি। ভারতীয় দখলদার মনোভাব ও আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রভাব সেখানে একটি পৃথক রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরি করছে, যা বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।”

তারা অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী ‘বি’ (বিদেশি শক্তি)-এর প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ‘সামাধান’ নামক বিভ্রান্তিকর এক চুক্তির ছায়ায় তথাকথিত শান্তির নামে সরকারকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে।

বক্তাদের উত্থাপিত দাবিসমূহ:

রাওসা নেতৃবৃন্দ ইঞ্জি. থোয়াই চিং মং শাক, শাফি নেওয়াজ তমিজ ও আহসান জামান দাবি করেন— ১। ১২ মে ‘ইউপিডিএফ’এর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২। ‘সামাধান’-এর নামে যে সব মিথ্যাচারকারী ও বিভ্রান্তিকর সংগঠনের প্রতিনিধিদের কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ করতে হবে।
৩। ‘ইউপিডিএফ’ জেনেভা ফোরাম ও কেএনএফসহ সকল আন্তর্জাতিক অপপ্রচারের সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।
৪। রাষ্ট্রদ্রোহী বৈঠকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
৫। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে লাঙল স্ট্রাটেজির অপপ্রয়োগ ও তথাকথিত সমন্বয় বন্ধ করতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “‘সামাধান’-এর নামে যারা বাংলাদেশের মাটিতে নতুন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছে, তাদের সেই স্বপ্ন কোনোদিন বাস্তবায়িত হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম চিরকালই বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।”

an adbox will go here