কলাপাড়ায় ঠিকাদারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ: অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা - দিগন্ত জার্নাল

কলাপাড়ায় ঠিকাদারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ: অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বুধবার, (১৪ মে ২০২৫) পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের মরিচবুনিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরএনপিএল) কয়লা খালাসের জেটিঘাটে শ্রমিক সরবরাহ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ঠিকাদার শাহীন মৃধার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক কার্যালয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ ঘটনায় রামদার কোপে আহত হয়েছেন অন্তত ১০-১২ জন, যাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা দোলন মৃধা, মিরাজ হোসেন এবং গাড়িচালক রানা। আহতরা পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলায় চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শতাধিক মোটরসাইকেলে অস্ত্রসহ একটি দল হামলায় অংশ নেয়, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন কলাপাড়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার। উপস্থিত ছিলেন ধানখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ তালুকদার, বশির মৃধা, হানিফ মেম্বারসহ আরও অনেকে। হামলাকারীরা শাহীন মৃধাকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়, যদিও তিনি টিন কেটে কোনোমতে প্রাণে বাঁচেন।

শাহীনের দাবি, আগুনে তার দুটি এসি, ফ্রিজ, টিভি, ১০টি সিসি ক্যামেরা, খাট, সোফা সেটসহ অন্যান্য আসবাব ও একটি ডাম্প ট্রাক সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার ওপরে বলে তিনি দাবি করেন।

হামলার পেছনে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মহসিনের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শাহীন ও তার ভাই রুবেল মৃধা। রুবেল দাবি করেন, তারা প্রতি মাসে মোশাররফকে চাঁদা দিতেন, যা তিনি তার ভাগনে লিওনের মাধ্যমে গ্রহণ করতেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত মহসিন বলেন, “আমি ঢাকায় থাকি। এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। বরং শাহীন মৃধা আমার কাছে চাঁদা চেয়েছে ও আমার শ্রমিকদের কাজে বাধা দিয়েছে।”

বিএনপি নেতা মোশাররফও তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি হামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে এমন কিছু ঘটেছে বলে শুনেছি।”

হামলার বিষয়ে বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান কাজল বলেন, “অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি সেখানে যাইনি এবং কিছু জানি না।”

ঘটনার পর কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে পথরোধ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী সদস্যদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কলাপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটির পাশের স্থাপনায় চিহ্নিত একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। আগুন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।”

an adbox will go here