হাসিনা ও টিউলিপকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলসহ আন্তর্জাতিক সহায়তা নিচ্ছে দুদক
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বুধবার, (১৪ মে ২০২৫) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি চুক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৪ মে) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে করা চুক্তির মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “টিউলিপ সিদ্দিক আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হারিয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হবে। আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”
এর আগে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল দুদক জানায়, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন এবং পরে ভারতে আশ্রয় নেন। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে অন্যতম হলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর একটি আবাসন প্রকল্পে জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউকের একটি অভিজাত প্রকল্পে ১০ কাঠা করে মোট ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন মিলিয়ে ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দায়ের করেছে দুদক।
দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, “জনগণের অর্থ যারা আত্মসাৎ করেছে বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার করেছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারা যেখানেই থাকুক না কেন, দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে।”
দুদকের এই অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিসরেও নজর কাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।