রাজশাহীতে শুরু হলো গুটি আম নামানো, ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার'সহ নামবে অন্যান্য জাত - দিগন্ত জার্নাল

রাজশাহীতে শুরু হলো গুটি আম নামানো, ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’সহ নামবে অন্যান্য জাত

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার, (১৫ মে ২০২৫) রাজশাহীর বিখ্যাত আমের জন্য প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকাল থেকেই নগর ও আশপাশের উপজেলার বাগানগুলোতে গাছপাকা গুটি আম নামানো শুরু হয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী প্রথম ধাপে এই গুটি আম নামানো হচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে নামানো হবে গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি, আশ্বিনা, গৌড়মতিসহ অন্যান্য উন্নত জাতের আম।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজশাহী নগর, পুঠিয়া ও বাঘা উপজেলার বিভিন্ন আমবাগানে দেখা গেছে, আমচাষিরা সাগরিকা, চোষা (চোরষা), বৈশাখী, চাপড়া জাতের গুটি আম পেড়ে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। নগরের ক্যান্টনমেন্ট এলাকার এক বাগানে কাজ করছিলেন আমচাষি আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “গাছেই আম ভালোভাবে পাকছে। এবার সময়মতো আম পাড়ার অনুমতি পাওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।” তিনি আরও জানান, গুটি জাতের প্রায় ৩০০ রকমের আম রয়েছে, যেগুলো অন্য আমের তুলনায় আগেভাগে পাকতে শুরু করে।

বাঘা উপজেলার আমচাষি মনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রথম দিন মণপ্রতি বড় গুটি আম বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, আর ছোট গুটি আম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা কম।” তিনি জানান, তার নিজ বাগানে ফলন কিছুটা কম হলেও আশপাশের বাগানগুলোতে ফলন ভালো হয়েছে।

এ বছর রাজশাহীতে ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী আম নামানোর সময়সূচি:

গুটি আম: ১৫ মে থেকে

গোপালভোগ: ২২ মে থেকে

লখনা (লক্ষণভোগ), রানীপছন্দ: ২৫ মে থেকে

হিমসাগর, খিরসাপাত: ৩০ মে থেকে

ল্যাংড়া, ব্যানানা ম্যাংগো: ১০ জুন থেকে

আম্রপালি, ফজলি: ১৫ জুন থেকে

বারি-৪: ৫ জুলাই থেকে

আশ্বিনা: ১০ জুলাই থেকে

গৌড়মতি: ১৫ জুলাই থেকে

কাটিমন, বারি-১১: পাকলেই নামানো যাবে

নির্ধারিত সময়সূচি কার্যকর হওয়ায় অপরিপক্ব আম বাজারজাতকরণ বন্ধ হবে বলে আশাবাদী কৃষক ও প্রশাসন। এই উদ্যোগ রাজশাহীর আমচাষিদের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি বাজারে মানসম্পন্ন আম সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

an adbox will go here