ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস আজ: পানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ছয় কোটি মানুষ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শুক্রবার , (১৬ মে ২০২৫) আজ ১৬ মে, ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস। ভারত কর্তৃক নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের ৫০টিরও বেশি নদী মরে গেছে, গঙ্গা-পদ্মার প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার নৌপথ অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং সেচ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ছয় কোটি মানুষ। খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে ধান উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, আর সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে।
১৯৭৬ সালের ১৬ মে এর এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে শুরু হয়েছিল ঐতিহাসিক ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ। এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে প্রথম গণআন্দোলনের সূচনা হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে ফারাক্কা ইস্যু নিয়ে সাড়া পড়ে। এরপর ভারত ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে একটি পাঁচসালা চুক্তি করতে বাধ্য হয়।
রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার ফারাক্কা লংমার্চের ৪৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী জানান, ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি এবং দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের আরও চার কোটি মানুষ সরাসরি সেচ ও পানির সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্পের অন্তত ৬৫ শতাংশ এলাকায় সেচ ব্যাহত হচ্ছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে শতভাগ অগভীর ও অনেক গভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে এবং অনেক এলাকায় নলকূপের পানিও পানযোগ্য নেই।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা নদীর আয়তন অর্ধেকে নেমে এসেছে, পানির অভাবে তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে, জলজ প্রাণী বিলুপ্তপ্রায় এবং নদীর বুকজুড়ে চলছে গরুর গাড়ি ও বালুবাহী ট্রাক। ইলিশ, ডলফিন, ঘড়িয়ালসহ দেশীয় মাছ ও জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে।
এ উপলক্ষে আজ বিকেল ৩টায় রাজশাহী কলেজের সামনে থেকে একটি র্যালি এবং বিকাল ৪টায় কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ফারাক্কা লংমার্চের ৪৯তম বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
ফারাক্কা দিবসে বাংলাদেশের জনগণ ফের জলাধিকার ও পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে।