বাংলাদেশে পালিত হলো গ্লোবাল অ্যাক্সেসিবিলিটি অ্যাওয়ারনেস ডে
ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির স্বীকৃতি পেলো গ্রামীণফোন, এনসিটিবি ও ইসলামী ব্যাংক
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শুক্রবার , (১৬ মে ২০২৫) প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশে পালিত হলো বৈশ্বিক অভিগম্যতা সচেতনতা দিবস ‘গ্লোবাল অ্যাক্সেসিবিলিটি অ্যাওয়ারনেস ডে (GAAD)’। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-র অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল এবং ফ্রেন্ডশিপের ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপ সেক্টরের ঊর্ধ্বতন পরিচালক আয়েশা তাসিন খান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ চৌধুরী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব ও এটুআই প্রোগ্রামের যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন এটুআই-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আবদুল্লাহ আল ফাহিম।
অনুষ্ঠানে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
গ্রামীণফোন পেয়েছে তাদের সাইনলাইন প্রকল্পের জন্য, যা বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ইশারা ভাষাভিত্তিক অনলাইন কাস্টমার সার্ভিস প্রদান করে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পেয়েছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া টকিং বইয়ের জন্য। এনসিটিবির পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরী।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পেয়েছে তাদের প্রতিবন্ধীবান্ধব ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা ‘সেলফিন’ অ্যাপের জন্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “আমরা আমাদের ‘ন্যাশনাল ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন স্ট্র্যাটেজি’ ও ‘আইসিটি রিফর্ম রোডম্যাপ’-এ ডিজিটাল অভিগম্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, যা সরকারি নীতির সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।” তিনি এটুআই-এর উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন এবং এসব সেবা দেশের প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আহ্বান জানান।
গণমাধ্যমের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “তাদের অনলাইন পোর্টালগুলোতেও ডিজিটাল অ্যাক্সেসিবিলিটি ফিচার সংযোজন করা উচিত, যা খুব সহজেই বর্তমান প্ল্যাটফর্মেই যুক্ত করা সম্ভব।”
দিবসটির মূল বার্তা ছিল—সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিকে সহায়ক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে গড়ে তোলা।