ভারতীয় পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শুক্রবার, (১৬ মে ২০২৫) আধিপত্যবাদী ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিএনপি নেতা শহিদ ইলিয়াস আলীর গুম-খুনের প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
একইসঙ্গে ফারাক্কা, গজলডোবা ও টিপাইমুখ বাঁধসহ সকল বাঁধের ফলে ভারতের পানি আগ্রাসনে গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ে সরকারের পদক্ষেপ দাবি করেছে দলটি।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ফারাক্কা লংমার্চ দিবস (১৬ মে) উপলক্ষে ‘ভারতীয় পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের’ দাবিতে আয়োজিত জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মাদ শামসুদ্দীন। বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. তোফায়েল হোসেন ও রাজু আহমেদ সদর এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে মোহাম্মাদ শামসুদ্দীন বলেন, ফারাক্কা, গজলডোবা ও টিপাইমুখ বাঁধসহ সকল বাঁধের ফলে গত ৫৪ বছরে যে বিপর্যয় ঘটেছে, তা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ববিরোধী হাসিনা-মোদি এবং হাসিনা-মনমোহন চুক্তি বাতিল করতে হবে। সীমান্তে নির্বিচারে বাংলাদেশি হত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের পানি লুট করে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করার চক্রান্ত রুখে দিতে বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান পানি মৈত্রী জোট গঠন করতে হবে।
শামসুদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীকে দিল্লি ও শেখ হাসিনা মিলে গুম করেছে। আমরা তার গুমের প্রকৃত তদন্ত ও বিচার চাই। ফারাক্কা দিবস জাতীয়ভাবে পালন করতে হবে।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব বলেন, কলকাতা বন্দরকে পলিমুক্ত রাখতে ভারত কর্তৃক নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটিয়েছে। গঙ্গার পানির একতরফা প্রত্যাহার শুধু পরিবেশ ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করেনি, বরং কৃষি, শিল্প, বনসম্পদ ও নৌ-যোগাযোগসহ অর্থনৈতিক খাতগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দায়ে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে এবং সকল বাঁধ ভেঙে দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. তোফায়েল হোসেন বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, পদ্মা-তিস্তায় হয় পানি প্রবাহিত হবে, না হয় ভারতীয়দের রক্ত। সেইসঙ্গে সীমান্তে ভারতের অবৈধ পুশইনেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় সদস্য রাজু আহমেদ সদর বলেন, ফারাক্কা লংমার্চের স্মৃতিবাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ আজ ভারতের পানি আগ্রাসনের নির্মম শিকার। দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মাদ শামসুদ্দীন, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান ও আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. তোফায়েল হোসেন ও রাজু আহমেদ সদর, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সহকারী সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাম নূর শাফায়েতুল্লাহ, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া শাখার সদস্য সচিব মো. জিনাত হোসেন এবং সহকারী সদস্য সচিব মো. সোহাগ প্রমুখ।