রাষ্ট্র সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
মঙ্গলবার , (২০ মে ২০২৫) রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই ইঙ্গিত দেন। সেখানে তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র, জুলাই সনদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও গণপরিষদ নির্বাচন—এই চারটি দিকেই এখন গুরুত্ব দিচ্ছে এনসিপি।
এর আগে সোমবার দুপুরে দেওয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে এনসিপির সাত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করাই এনসিপির প্রধানতম রাজনৈতিক কর্তব্য। এজন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন, প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদার আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এনসিপির পথচলা। দলটি উপনিবেশবিরোধী ও ব্রাহ্মণ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতাকে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
ধর্ম ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এনসিপি কোনো সেকুলারিস্ট বা ধর্মতান্ত্রিক মতবাদকেই অনুসরণ করে না। বরং নাগরিকদের ধর্মবিশ্বাস ও আত্মিক অনুভবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের সমাজ নির্মাণে বিশ্বাসী। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম—তার নৈতিকতা ও মানবিকতা, বাঙালি মুসলমানের ভাষা ও সংস্কৃতিকে মূল্যায়ন করে এনসিপি। একইসঙ্গে সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়নকে এনসিপির অন্যতম মূলনীতি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নেতৃত্ব ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং পারিবারিক আইনের আওতায় সম্পত্তিতে নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য এনসিপি কাজ করবে।
আঞ্চলিক ভূরাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদ বাংলাদেশের জন্য সাংস্কৃতিক ও ভূরাজনৈতিক হুমকি। এনসিপি এই প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান নেবে এবং ন্যায্যতা, মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলবে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এনসিপির ভিশন তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত কল্যাণ রাষ্ট্র গড়াই এনসিপির লক্ষ্য। শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু, নগর ব্যবস্থাপনা, শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থানকে মূল নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে দলটি। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক একটি নতুন অর্থনৈতিক জোন তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এনসিপির অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির এই ঘোষণাগুলো সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সংবিধান প্রণয়নের মতো বড় রাজনৈতিক প্রস্তাবনায় কী ধরনের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করে এনসিপি, তা এখন দেখার বিষয়।