এনসিপিকে জাগ্রত কবি মুহিব খানের পক্ষ থেকে ৫ পরামর্শ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
সময়ের আলোকিত জ্ঞানী, জাগ্রত কবি মুহিব খান নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ৫টি দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দিয়েছেন। এনসিপির সাম্প্রতিক উত্থান ও তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকাকে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি সম্ভাবনাময় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। তার এই মূল্যবান পরামর্শমালা তিনি ২০ মে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করেন।
প্রথম পরামর্শে, তিনি বলেন— যদি এনসিপি নিখাঁদ দেশপ্রেম, ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ, সততা ও নীতি-নৈতিকতায় নিজেকে সুসংগঠিত করে এগিয়ে যায়, তাহলে এদেশের অসন্তুষ্ট ও আশাভঙ্গ হওয়া জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আস্থা হারানো জনগণের জন্য এনসিপি হতে পারে নতুন আশ্রয়স্থল।
দ্বিতীয় পরামর্শে, মুহিব খান মনে করিয়ে দেন— বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। এনসিপি যদি শুধু ভা’রত নয়, বিশ্বের অন্যান্য আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও কৌশলী অবস্থান নিতে পারে, তবে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
তৃতীয় পরামর্শে, তিনি দুর্নীতির দুই ধরন—আর্থিক ও নীতিগত দুর্নীতি—থেকে মুক্ত থেকে দলকে স্বচ্ছ রাখতে বলেন। তিনি মনে করেন, এনসিপিকে হতে হবে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো জনভিত্তিক হলেও তাদের দুর্নীতি, দম্ভ, চাঁদাবাজি, আঁতাতের মত নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
চতুর্থ পরামর্শে, অতীতের বিতর্ক ও ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই তা শুধরে নেওয়ার আহ্বান জানান মুহিব খান। ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা গঠনে সংগঠিত, চিন্তাশীল ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন।
পঞ্চম পরামর্শে, তরুণদের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও তারুণ্যের শক্তিকে সঠিক অভিভাবকত্ব ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তরের তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, এই সাহসী তরুণরাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চাবিকাঠি ছিল, এবং তারাই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হতে পারে।
শেষ কথায়, মুহিব খান বলেন— ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল কেবল একটি সরকার পতনের নয়, বরং তা ছিল বিদেশি আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের অংশ। এনসিপিকে এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন ও কৌশল গড়ে তুলতে হবে।
মুহিব খান আরও জানান, এই পরামর্শগুলোর প্রতিটি বাক্যের পেছনে যুক্তি ও ব্যাখ্যা রয়েছে যা প্রয়োজনে আলাদা পরিসরে বিশ্লেষণ করবেন। তবে রাজনৈতিক কৌশল ও পরামর্শ গণমাধ্যমে পুরোপুরি প্রকাশ না করাই সংগত বলে মনে করেন তিনি।