সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে ৪১৬টি আবেদন, বাড়ছে পিরোজপুর-২-এ চাপ - দিগন্ত জার্নাল

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে ৪১৬টি আবেদন, বাড়ছে পিরোজপুর-২-এ চাপ

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বুধবার , (২১ মে ২০২৫) দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণসংক্রান্ত আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ কাজ জোরেশোরে এগিয়ে নিচ্ছে। আগাম নির্বাচনে ৩০০টি আসন বহাল রেখে বিদ্যমান আইন অনুসারে সীমানা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক ঐকমত্য না থাকায় সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে না, তবে জনশুমারি, প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় সীমানা বদলের কাজ চলছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, সোমবার (১৯ মে) পর্যন্ত ৬৬টি আসনের জন্য ৪১৬টি আবেদন জমা পড়েছে, যার বেশিরভাগই বিএনপি নেতাকর্মীদের। আবেদনকারীদের ৯০ শতাংশই ২০০১ সালের সীমানায় ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে পিরোজপুর-২ (১০৩টি), কুমিল্লা-১০ (৯২টি), ঢাকা-৭ (৩৬টি), মানিকগঞ্জে একটি নতুন আসনের দাবিতে (৩৮টি), ও চাঁদপুরে (৯টি)।

ইসি সূত্র জানায়, এবার অনেক আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসতে পারে। শহরের আসন কমে যাওয়ার এবং গ্রামের আসন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, যৌক্তিক আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং এক আসনে পরিবর্তনের প্রভাব আশপাশের আসনেও পড়তে পারে। ফলে ২০০৮ সালের পর আবার বড় ধরনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পিরোজপুর-২ আসনের প্রস্তাবিত পরিবর্তনে কাউখালী, ভাণ্ডারিয়া ও ইন্দুরকানী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লার একাধিক আসনের প্রস্তাবিত পরিবর্তনে ব্যাপক আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে আছেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী ও আবদুল গফুর ভূঁইয়া।

ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জকে আলাদা আসন হিসেবে পুনঃস্থাপনের দাবি উঠেছে। আবেদনকারীরা বলছেন, দুই উপজেলা পৃথক থাকলে প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও উন্নয়ন বাড়বে। কেরানীগঞ্জের কিছু অংশকে ঢাকা-৭ এর সঙ্গে যুক্ত করার দাবিও উঠেছে।

বিভিন্ন জেলা যেমন মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ ও রাজবাড়ী থেকেও একটি করে আসন বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, ঝালকাঠী, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, সিলেট, চট্টগ্রামসহ অনেক জেলার বিভিন্ন আসন নিয়ে আবেদন জমা পড়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, জমা হওয়া আবেদনের সারসংক্ষেপ তৈরি করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আগের মত খসড়া প্রকাশ করে আপত্তির সুযোগ রাখা হতে পারে। তবে কমিশন ইতোমধ্যে ২০০১, ২০০৮, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সীমানা পরিবর্তনের তুলনামূলক বিবরণ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে।

সব মিলিয়ে এবার সীমানা পুনর্নির্ধারণে সর্বশেষ ২০০৮ সালের মতো বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

an adbox will go here