নারী সংস্কার কমিশনের কুরআন-বিরোধী সুপারিশের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শুক্রবার, (২৩ মে ২০২৫) সম্প্রতি নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের কয়েকটি প্রস্তাবনায় কুরআনের শিক্ষা ও ইসলামী সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এসব প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে নারীর উত্তরাধিকার অংশে সমতা দাবি, বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ, বৈবাহিক সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার প্রচেষ্টা, যৌনপেশাকে শ্রমের মর্যাদা প্রদান ও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে বিকৃত ভাষার আইনগত স্বীকৃতির সুপারিশ।
এই প্রেক্ষাপটে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঈমানি অনুভূতির প্রকাশ হিসেবে “কুরআন প্রেমিক তাওহীদি জনতা” এবং “রামপুরা হাতিরঝিল থানা ইমাম, খতিব, ওলামা পরিষদ”-এর যৌথ উদ্যোগে জুমার নামাজের পর রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে মালিবাগ রেলগেট পর্যন্ত এক বিশাল, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসার ইমাম-খতিব, ওলামা-মাশায়েখ, ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন “রামপুরা হাতিরঝিল থানা ইমাম, খতিব, ওলামা পরিষদ” এর সভাপতি ও জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগের ভাইস প্রিন্সিপাল শায়খ মুফতী হাফীজুদ্দীন (দা.বা.)। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা কেবল প্রশাসনিক দায়িত্বে নন, বরং জাতির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষায়ও আপনাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। ইসলাম ও কুরআনের শিক্ষার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য চিন্তার অনুকরণে কোনো আইন চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করলে তা দেশের ঈমানদার জনতা মেনে নেবে না।”
তিনি মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন: ১. কুরআন-বিরোধী সুপারিশ অবিলম্বে বাতিল;
২. শীর্ষ মুফতিদের দ্বারা সুপারিশ যাচাই-বাছাই;
৩. নারীদের জান-মাল ও সম্মানের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ;
৪. অসহায় নারীদের সম্মানজনক পুনর্বাসন ও আর্থিক ভাতা;
৫. ধর্ষণসহ নৃশংস অপরাধে শরিয়া ভিত্তিক বিচার কার্যকর;
৬. যৌতুক, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানির দ্রুততম শাস্তি নিশ্চিতকরণ।
তিনি বলেন, “শরিয়াহ আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা। একে বিকৃত করে বেহায়াপনা ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতি চাপানোর অপচেষ্টা ইসলাম, পরিবার ও নারী মর্যাদার চরম শত্রুতা।” মানববন্ধন আয়োজকরা এই কর্মসূচিকে কুরআনপ্রেমিক মুসলিম জনতার ঈমানি চেতনাবোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যেন তারা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনগণের ধর্মবিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

কর্মসূচির শেষাংশে আয়োজকগণ অংশগ্রহণকারী ওলামা-মাশায়েখ, মুসল্লি, মিডিয়া ও প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।