নির্বাচন নিয়ে সংকটে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বুধবার, (২৮ মে ২০২৫) — শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়েছে। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর সরকার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেও প্রতিশ্রুত সংস্কারে বিলম্ব, ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে গভীর সংকটে পড়েছে।
নির্বাচন বিতর্কে অসন্তোষ ও চাপ
অধ্যাপক ইউনূস জানিয়েছেন, ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬-এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি সরকার। এ অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দাবি করে বলেছে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া সরকারে তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখা কঠিন হবে।
এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সম্প্রতি এক বক্তব্যে ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দেন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান, যা সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে তোলে।
গত বছরের আন্দোলনের তরুণ নেতৃত্ব থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন না হয়, ততক্ষণ নির্বাচন স্থগিত রাখা উচিত।
সংস্কার নিয়ে অচলাবস্থা
অধ্যাপক ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে সাত সদস্যের একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রথম দফার সংলাপে কিছু সংস্কারের ব্যাপারে সহমত পাওয়া গেছে, যেমন—তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
তবে সাংবিধানিক সংস্কার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। দ্বিতীয় দফার সংলাপ জুনের প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
অস্থির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের রাজপথে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এসব আন্দোলন জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত রাজনৈতিক ঐকমত্য না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত, নির্বাচনী অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি
চলতি মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন, ফলে সামনের জাতীয় নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর একটি সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।