সুব্রত বাইন ছিলেন ‘র’ এর এজেন্ট, দাবি জুলকারনাইন সায়েরের - দিগন্ত জার্নাল

সুব্রত বাইন ছিলেন ‘র’ এর এজেন্ট, দাবি জুলকারনাইন সায়েরের

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

শুক্রবার , (৩০ মে ২০২৫) অপরাধ জগতের আলোচিত চরিত্র সুব্রত বাইন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর হয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন লন্ডনভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই তথ্য জানান।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২৩ জন শীর্ষ স’ন্ত্রা’সীর তালিকায় প্রথম নাম ছিল সুব্রতর। তার মাথার মূল্য ছিল এক লাখ টাকা। পরিস্থিতির চাপে পড়ে সুব্রত তার সহযোগী মোল্লা মাসুদকে নিয়ে ভারতে পাড়ি জমান এবং কলকাতা পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও তানভীরুল ইসলাম জয় নামের আরেক শীর্ষ স’ন্ত্রা’সীর সহায়তায় মুক্তি পান।

এরপর সুব্রত, মোল্লা মাসুদ ও তানভীরুল ইসলাম জয় কলকাতার পুলিশ কমিশনার এস. কে. চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআই’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। তাদের দেওয়া বিভিন্ন মিশনে অংশ নিতে তারা মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। দিল্লিতে সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা এস. মাথুরের নির্দেশে বাংলাদেশের ভেতরে বিভিন্ন মিশনেও অংশ নেন তারা।

জুলকারনাইন দাবি করেন, সুব্রত ঢাকায় ফিরে মোহাম্মদপুর এলাকায় বম সম্প্রদায়ের এক নেতার পরিবারে হামলা চালিয়ে হত্যা করে এবং বিহারী ক্যাম্পের মোস্তাকিম কাবাবের মালিক মোস্তাকিমকে গুলি করে হত্যা করেন। এসব অপারেশনে তার লক্ষ্য ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার স্বার্থ রক্ষা।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুরোধে কলকাতায় সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান শুরু হলে সুব্রত চীনে পালিয়ে যান এবং পরে দুবাইয়ে গা ঢাকা দেন। সেখানে তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে টাইগার মেমনের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে দাউদ ইব্রাহীমের নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

জুলকারনাইন আরও জানান, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুব্রতকে ভারতের বালিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাকে রাজধানীর র‍্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেনা কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়। সেখানে তাকে বিশেষ মিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং কানাডা প্রবাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লন্ডনে বসবাসরত একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে টার্গেট করে পাকিস্তানি পাসপোর্টে সুব্রতকে লন্ডনে পাঠানোর পরিকল্পনা হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে তাকে তার কন্যা বিথির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ‘র’-এর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করে।

সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে মোল্লা মাসুদ স্যাটেলাইট ফোনসহ বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং সুব্রত ও মাসুদের মাধ্যমে কিছু পলাতক শীর্ষ রাজনীতিকরা যোগাযোগ রাখছেন নেপালে অবস্থানরত সন্ত্রাসী লেদার লিটনের সঙ্গে।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি জুলকারনাইন সায়েরের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

an adbox will go here