হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রোববার, (১ জুন ২০২৫) জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করে দায়ের করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
রোববার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালত আগামী ১৬ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।
এদিন ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার ও অতিরিক্ত চিফ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। আদালতের অনুমতিক্রমে এই গুরুত্বপূর্ণ বিচার কার্যক্রম বিটিভি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। অপর অভিযুক্ত চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন এরইমধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার হুকুমদাতা, পরিকল্পনাকারী ও মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১২ মে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল ২০ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্দোলন দমন করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সরকার সহস্রাধিক মানুষ হত্যা করে। মামলার প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরসহ আরও ৪৬ জনের বিরুদ্ধেও বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে।
এই মামলাটি বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইতিহাসে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।