হাসিনার বিরুদ্ধে ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে, বিচার শুরু - দিগন্ত জার্নাল

হাসিনার বিরুদ্ধে ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে, বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রোববার, (১ জুন ২০২৫)মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন টিম। রোববার (১ জুন) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এই শুনানি শুরু হলে তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার অভিযোগপত্রটি ১৩৫ পৃষ্ঠার, তবে প্রমাণ-উপাত্ত, সাক্ষ্য, অডিও-ভিডিও কল, দালিলিক নথি মিলিয়ে মোট ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার বিশাল অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে ৮১ জনকে।

এই মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ছাড়াও অভিযুক্ত আরও দুজন হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। প্রসিকিউশন দাবি করেছে, এই তিনজনের বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যার নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিসহ মোট পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ তারা পেয়েছে।

এর আগে গত ১২ মে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওইদিন এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নির্বিচারে ১,৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়—এর নির্দেশদাতা ছিলেন শেখ হাসিনা।” তিনি আরও বলেন, “এই বিচার কোনো অতীতের প্রতিশোধ নয়, বরং একটি ভবিষ্যতের প্রতিজ্ঞা যে এ দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ আর থাকবে না।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এই ঘটনাবলি ইতিহাসে পরিচিত ‘জুলাই বিপ্লব’ বা ‘বর্ষা বিপ্লব’ নামে। আন্দোলনকারীদের দমন করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনগুলি মিলে পরিচালনা করে পদ্ধতিগত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। চিফ প্রসিকিউটর দাবি করেন, এই অপরাধ সংঘটনে সর্বোচ্চ নির্দেশ ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই বিচার চলছে সেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই, যা তার সরকারই একসময় গঠন করেছিল ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার উদ্দেশ্যে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিচার প্রক্রিয়া কেবল একটি শাসকের বিচারের নয়—এটি একটি ইতিহাসের মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত, যেখানে ‘দণ্ডমুক্তি’র সংস্কৃতির অবসান এবং জবাবদিহিতার শুরু হতে পারে।

an adbox will go here