একুশে পদকপ্রাপ্ত আপেল মাহমুদকে আবারও প্রমাণ করতে হলো—তিনি মুক্তিযোদ্ধা - দিগন্ত জার্নাল

একুশে পদকপ্রাপ্ত আপেল মাহমুদকে আবারও প্রমাণ করতে হলো—তিনি মুক্তিযোদ্ধা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার , (৩ জুন ২০২৫) মহান মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গণের প্রেরণাদায়ী কালজয়ী গান ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি, মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি’—এর গায়ক ও সুরকার আপেল মাহমুদ। সবার কাছে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুপরিচিত এই শিল্পীকে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আবারও প্রমাণ দিতে হলো—তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।

সম্প্রতি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে অভিযোগ করেন এক ব্যক্তি। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে জামুকার শুনানিতে হাজির হয়ে আপেল মাহমুদ নিজেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ করেন।

জামুকা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর স্বাধীন বাংলা বেতারকর্মী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন যে, আপেল মাহমুদ মুক্তিযোদ্ধা নন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ১২ মে জামুকার উপপরিচালক (উন্নয়ন) ফাতেমা খাতুন আপেল মাহমুদকে নোটিশ পাঠান। নোটিশে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার প্রমাণাদি উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুনানিতে জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুনসহ সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে শাহিনা খাতুন বলেন, “আপেল মাহমুদ যথাযথভাবে প্রমাণ করেছেন তিনি রণাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা। যদি তিনি শুধু গান গেয়েই অনুপ্রেরণা দিতেন, তবে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতেন। কিন্তু কাগজপত্রে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন।”

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার জানান, “শুনানির স্থান নির্ধারণ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে আমাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। জামুকার প্রতিনিধিরাই শুনানি পরিচালনা করেন।”

আত্মবেদনাপূর্ণ কণ্ঠে আপেল মাহমুদ বলেন, “জীবিত অবস্থায় আবারও প্রমাণ করতে হলো আমি মুক্তিযোদ্ধা। বিষয়টি নিয়ে জামুকার সদস্যরাও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।” তিনি জানান, ১৯৭১ সালে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের কমান্ডে তিন নম্বর সেক্টরে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। পরে নরসিংদী, আশুগঞ্জ, রামনগর ব্রিজ, ভৈরব, হবিগঞ্জ, চুনারুঘাট, চানপুর টি স্টেট, তেলিয়াপাড়া এলাকায় যুদ্ধ করেছেন। আশুগঞ্জ যুদ্ধে আহত হলে তাঁকে আগরতলা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কলকাতায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার শুরুতেই শিল্পী হিসেবে যোগ দেন।

সেই যুদ্ধের দিনগুলো স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে আমার দায়িত্ব ছিল, যা আমি ২০০৬ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত পালন করেছি।”

শুনানিতে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী নাসরিন মাহমুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শব্দসৈনিক মনোরঞ্জন ঘোষাল, বেতারের সাবেক পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হায়াত খান, সুভাষ সাহাসহ আরও অনেকে।

উল্লেখ্য, সংগীতজীবনে আপেল মাহমুদ দেশাত্মবোধক গান ছাড়াও রবীন্দ্রসংগীত, লালনগীতি, গণসংগীত ও আধুনিক গান গেয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ২০০৫ সালে সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

an adbox will go here