ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে: কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে ৯ প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বুধবার , (৪ জুন ২০২৫) ঢাকা: বহুল শ্রুত ও জনপ্রিয় ভক্তিমূলক গান “ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে”–এর কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশের ৯টি প্রযোজনা ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজনেস অ্যাডভোকেসির স্বত্বাধিকারী ও উপদেষ্টা মোঃ রিয়াজ সিকদার। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বিজনেস অ্যাডভোকেসি আইনসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রাজিন আহমেদ। তিনি জানান, বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে গানটির মূল গীতিকার ও সুরকার হিসেবে মরহুম সৈয়দ আসাদউদ্দৌলা শিরাজীর নামেই রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হয়েছে। তার উত্তরাধিকারী সৈয়দা গুলরুখ মহল সিরাজীর পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত কপিরাইট সনদও ইস্যু করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘ডাক দিয়াছে দয়াল ওপারে’ শিরোনামে ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত এই গানটি “ঝড়ের বাঁশি” নামক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও কপিরাইট অফিসে দাখিল করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে ‘প্রাণ সজনী’ চলচ্চিত্রে এ গানটি বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়, যেখানে গীতিকার হিসেবে মনিরুজ্জামান মনির এবং সুরকার হিসেবে আলম খানের নাম উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে কপিরাইট অফিস মনিরুজ্জামান মনিরকে চিঠি দিলে তিনি জবাবে জানান, তিনি এই গানের গীতিকার নন। ফলে কপিরাইট অফিসের তদন্তে প্রমাণিত হয়, গানটির প্রকৃত গীতিকার ও সুরকার মরহুম সৈয়দ আসাদউদ্দৌলা শিরাজী। তবে সুরের কোনো রেকর্ডেড প্রমাণ না থাকায় তার নামে সুরকার হিসেবে সনদ ইস্যু হয়নি। তবুও আলম খান এই গানের সুরকার নন, তা তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গানটির কপিরাইট ব্যতীত বাণিজ্যিক ব্যবহার কপিরাইট আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে কপিরাইট অফিস জানিয়েছে, গানটি ব্যবহারের জন্য গীতিকার বা সুরকারের উত্তরাধিকারের অনুমতি আবশ্যক। এই অনুমতি ব্যতীত যে কোনো ধরনের রিমেক, বিক্রি কিংবা রিংটোন বা ওয়েলকাম টিউনের মতো মাধ্যমে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।
এদিকে, অনুমতি ছাড়াই গানটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগে রবিবার (১৭ নভেম্বর) গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেলসহ জি-সিরিজ, অনুপম, গানবাংলা–সহ মোট ৯টি প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অনুমতি ছাড়াই কপিরাইটযুক্ত এই গান রিংটোন ও ওয়েলকাম টিউনে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা অর্জন করেছে, যা কপিরাইট আইন ২০০০ অনুযায়ী দেওয়ানি ও ফৌজদারি অপরাধ।
আইনজীবী রাজিন আহমেদ জানান, ১৫ দিনের মধ্যে নোটিশের বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজনেস অ্যাডভোকেসির উপদেষ্টা রিয়াজ সিকদার বলেন, “মরহুম সৈয়দ আসাদউদ্দৌলা শিরাজীকে তার সৃষ্টি থেকে বঞ্চিত করাই শুধু নয়, বরং তার কপিরাইট সংক্রান্ত সকল অধিকার হরণ করা হয়েছে। এটি একটি ন্যায়বিচারের বিষয় এবং আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় তা আদায় করব।”