টিউলিপ সিদ্দিকের ১৩ বছরের আয়কর নথি ও শ্যামলীর ফ্ল্যাট জব্দ করেছে দুদক - দিগন্ত জার্নাল

টিউলিপ সিদ্দিকের ১৩ বছরের আয়কর নথি ও শ্যামলীর ফ্ল্যাট জব্দ করেছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বুধবার, (৪ জুন ২০২৫) ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধানে তার ১৩ বছরের আয়কর নথি এবং শ্যামলীর রিং রোডে জনতা হাউজিং সোসাইটিতে থাকা একটি ফ্ল্যাটের কাগজপত্র জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

মঙ্গলবার দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন কর অঞ্চল-৬ এর অধীন কর সার্কেল-১২২ থেকে এসব নথি জব্দ করেন। নথিতে ২০০৬-০৭ করবর্ষ থেকে ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত টিউলিপের দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নসহ মোট ৮৭টি পৃষ্ঠা রয়েছে, যেখানে ‘অ্যাডভান্স টুওয়ার্ডস ডেভেলপার্স’ শিরোনামে ৫ লাখ টাকা করে ব্যয়ের তথ্য রয়েছে প্রতি বর্ষে। ২০১৫ সালে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট ছোট বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে হেবা (দান) দেওয়ার রেজিস্ট্রিকৃত দলিলও এসব নথিতে রয়েছে। তবে ২০১৮-১৯ করবর্ষের পর থেকে টিউলিপ আর কোনো রিটার্ন দাখিল করেননি।

দুদক জানায়, গুলশান ২ নম্বরে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড থেকে ঘুষ হিসেবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল টিউলিপের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে ১৯৯৭ সাল থেকেই ফ্ল্যাটের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়, যেখানে রাজউকের দুই কর্মকর্তা তাকে সহায়তা করেন। অভিযোগ অনুসারে, কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই তিনি ফ্ল্যাটটির মালিকানা নেন।

এর আগে ১৩ এপ্রিল পূর্বাচলে ৩০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব ববি, টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিকসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

এদিকে টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবী অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করে বলেন, “এই সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।” টিউলিপ নিজেও গত ১৪ এপ্রিল লন্ডনে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ভুল কিছু করেছি, এমন কোনো প্রমাণ নেই।” তার মুখপাত্র অভিযোগ করেন, “যদি বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতো, দুদক আগে আইনজীবীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের নাগরিক, লন্ডনে বসবাস করেন, তাই কোথায় পাওয়া যাবে তা দুদক ভালোভাবেই জানে।”

দুদকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়নি বলেও দাবি করা হয়। তবে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

an adbox will go here