পদ্মা সেতুর নামে মোবাইলে সারচার্জ এখনও চলছে, বন্ধে আইনি নোটিশ
স্টাফ রিপোর্টার
(৫ জুন ২০২৫) নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতুর খরচ মেটাতে মোবাইল ফোনে ব্যয়ের ওপর আরোপিত এক শতাংশ সারচার্জ এখনো অব্যাহত রয়েছে, যা বেআইনি ও ভোক্তা স্বার্থবিরোধী বলে দাবি করেছে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংগঠন কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি (সিসিএস)। এ পরিস্থিতি বন্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে সংগঠনটি।
কারা পেয়েছে নোটিশ?
গতকাল বুধবার (৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ.কে.এম. আজাদ হোসাইন সিসিএস-এর নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদের পক্ষে এই আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশ পাঠানো হয়েছে—
অর্থ মন্ত্রণালয়,
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়,
আইন মন্ত্রণালয়,
সেতু বিভাগ,
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ,
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর),
বিটিআরসি,
মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক—মোট ১১টি পক্ষকে।
কী বলা হয়েছে নোটিশে?
নোটিশে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে মোবাইল ফোনে খরচের ওপর এক শতাংশ সারচার্জ আরোপ করে সরকার, যার ভিত্তি ছিল ‘উন্নয়ন সারচার্জ ও লেভি আইন, ২০১৫’। এই অর্থ সংগ্রহের পেছনে যুক্তি ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, এ পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ২০০০ কোটিরও বেশি টাকা আদায় করা হয়েছে। অথচ ২০২২ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলেও এই সারচার্জ এখনো চলছে।
আইনের ৪(১) ধারায় বলা আছে, সরকার নির্দিষ্ট শর্ত ও সময়সীমায় সারচার্জ আদায় করতে পারবে। কিন্তু ২০১৬ সালের প্রজ্ঞাপনে কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করে এটি আদায় করা হচ্ছে, যা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি সিসিএস-এর।
সাত দিনের আল্টিমেটাম
নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে মোবাইল ফোনে খরচের ওপর চলমান এক শতাংশ সারচার্জ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
সিসিএস-এর ভাষ্য, পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষে এখন এই সারচার্জ ‘উদ্দেশ্যহীন, অনির্ধারিত ও বেআইনি’, যার ফলে ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই এই অব্যাহত আদায় ভোক্তা স্বার্থের পরিপন্থী।