নির্যাতনের চিহ্ন ঢাকতে লাগানো হতো মলম: গুম কমিশনের ভয়াবহ প্রতিবেদন - দিগন্ত জার্নাল

নির্যাতনের চিহ্ন ঢাকতে লাগানো হতো মলম: গুম কমিশনের ভয়াবহ প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বুধবার, (২ জুলাই ২০২৫) গুমের শিকার ব্যক্তিদের ওপর বর্বর নির্যাতনের চিহ্ন মুছে দিতে তাদের শরীরের ক্ষতস্থানে ওষুধ বা মলম দেওয়া হতো। নির্যাতনের পর শরীরের জখম দেখে যেন জনসমক্ষে কিছু বোঝা না যায়—এই উদ্দেশ্যেই এমনটা করা হতো। অনেক সময় নির্যাতনের দাগ মুছে গেলে তবেই তাদের মুক্তি দেওয়া হতো।

গুম কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই ভয়াবহ চিত্র। মঙ্গলবার কমিশনের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য কিছু অংশ উন্মুক্ত করা হয়।

শব্দনিরোধক সেলে আটক, রেকর্ডবিহীন গুম

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের গুম করে রাখা হতো শব্দনিরোধক কক্ষে, যাতে চিৎকার বাইরে না পৌঁছায়। এসব গুমের কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড থাকত না, ফলে নিরাপত্তা বাহিনী দায়মুক্তভাবে চালাতে পারত নির্যাতন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কথিত ‘সরকারবিরোধী যড়যন্ত্র’ জানার জন্য টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদ্ধতিতে নির্যাতন করা হতো। কখনো ঝুলিয়ে, কখনো বৈদ্যুতিক শক, আবার কখনো আঙুলের নখ উপড়ে নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি চোখ বাঁধা অবস্থায় কেউ কেউ নিজের পোড়া মাংসের গন্ধ পর্যন্ত পেতেন।

নারীদেরও ছাড় দেওয়া হতো না

একাধিক ভুক্তভোগী নারী জানান, তাদের ঝুলিয়ে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হতো, যা দেখে বাহিনীর সদস্যরা উল্লাস করত। এক নারী জানান, তাকে জানালার দিকে মুখ করে ক্রুশবিদ্ধভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়, ওড়না কেড়ে নেওয়া হয়, যাতে বাইরে থেকে দেখা যায়। এসময় নির্লজ্জভাবে অনেকে ভিড় করে দেখত এবং কটূ মন্তব্য করত।

টয়লেটের পাশে পড়ে থাকতেন পুরুষ ভুক্তভোগীরা

এক গুমের শিকার জানান, ছোট্ট ঘরে একটি উন্মুক্ত প্যান ছিল টয়লেটের জন্য। দেয়াল না থাকায় শোয়ার সময় শরীর ময়লার উপর পড়ে থাকত। ক্যামেরার নজরদারিতে টয়লেট ব্যবহারের সময়ও থাকতেন মানসিক চাপ ও অপমানে।

শরীরের বিভিন্ন অংশে শক, প্লাস দিয়ে নখ উপড়ানো, পায়ে ক্লিপ

ভুক্তভোগীরা জানান, শক দেওয়ার সময় শরীর ফুটবলের মতো গোল হয়ে যেত, কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়তেন। একাধিকজনের দাবি, গোপনাঙ্গেও শক দেওয়া হতো। কেউ কেউ জানিয়েছেন, সুঁচ দিয়ে আঘাত করা, মুখে গামছা গুঁজে পানির মধ্য দিয়ে শ্বাসরোধ করা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

ভুক্তভোগীদের দাবি: অপরাধীরা বহাল তবিয়তেই

কমিশনে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, যারা এইসব ভয়াবহ নির্যাতনে জড়িত—তাদের অধিকাংশই এখনো সরকারি চাকরিতে বহাল। গ্রেফতার বা বিচারের মুখোমুখি হয়নি কেউ। এতে করে আরও ভয়ংকর গুম সংস্কৃতি ফেরার আশঙ্কা করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: গুম কমিশনের প্রতিবেদন এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ হয়নি। দিগন্ত জার্নাল পাঠকদের প্রতি আহ্বান জানায়, এ বিষয়ে যাদের প্রমাণ বা অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা যেন নির্ভয়ে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

an adbox will go here