সাংবাদিক পরিচয়ে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ: গাজীপুরে নিষিদ্ধ এমএলএম সাম্রাজ্যের মূল হোতা এস এম ইকবাল হোসেন - দিগন্ত জার্নাল

সাংবাদিক পরিচয়ে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ: গাজীপুরে নিষিদ্ধ এমএলএম সাম্রাজ্যের মূল হোতা এস এম ইকবাল হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বৃহস্পতিবার , ১৭ জুলাই ২০২৫ | এক সময় ছিলেন কলমের সৈনিক, আজ হয়েছেন কোটি টাকার প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড! সাংবাদিকতার সম্মান ও আস্থা ব্যবহার করে গাজীপুরে গড়ে তোলা হয়েছে একটি নিষিদ্ধ অনলাইন এমএলএম সাম্রাজ্য, যার নেতৃত্বে ছিলেন গাজীপুর মহানগর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি এবং তার সহযোগীরা কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা গাজীপুর সদর থানায় এসএম ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সাংবাদিকতার আড়ালে ভয়াবহ চক্রের উত্থান

ভুক্তভোগীরা জানান,macvz.com ডোমেইনে “Mistral AI”এবং kiaix.com-এ “KumoAI” নামে দুটি প্রতারণামূলক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করে এই চক্র।

এগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন গাজীপুর মহানগর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আমজাদ খান, এস এম ইকবাল হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি হাজি কামাল চৌধুরী, সাবাক সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান জাহাঙ্গীর ও সদস্য গোলাম রসুল দিনার।

তাদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী ও মাঠপর্যায়ে রিক্রুটিংয়ের প্রধান ছিলেন এস এম ইকবাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে গোপনে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার গ্রুপ এবং ভুয়া বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ সাংবাদিক ও মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে প্রলোভনে ফেলেন।

বিনিয়োগকারীদের সর্বনাশের ফাঁদ

প্রথমে সহকর্মী সাংবাদিকদের ১৫% রেফারেল বোনাস ও অস্বাভাবিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যে কিছু মুনাফা দেওয়া শুরু হলে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, এবং তারাও পরিচিতজন, পরিবার, এমনকি সাধারণ মানুষকে এই চক্রে যুক্ত করতে থাকেন।

অসংখ্য ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এমনকি নগদ লেনদেনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

নাটকীয় মোড়: ‘সিস্টেম হ্যাকড’ নাটক ও নতুন প্ল্যাটফর্ম

১৪ জুলাই তারিখে তারেক রহমান জাহাঙ্গীর গ্রুপে ‘সিস্টেম হ্যাক’ হওয়ার অজুহাত দিয়ে সমস্ত লেনদেন বন্ধের ঘোষণা দেন। বিনিয়োগকারীরা তখন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে গ্রুপ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর ১৫ জুলাই তারা আবার KumoAI নামে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করে নতুন করে বিনিয়োগ আহ্বান শুরু করে। ভয়েস বার্তা ও বারংবার ইমোশনাল ব্যাকমেইলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ঠকানো অব্যাহত রাখে।

ইমোশনাল ব্যাকমেইল ও ভয়ভীতির কৌশল

ভুক্তভোগীদের মতে, এস এম ইকবাল হোসেন ও তারেক রহমান জাহাঙ্গীর চক্রটি গাজীপুরসহ দেশের শত শত সহজ-সরল সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিককে ফাঁদে ফেলেন। অনেকেই শেষ সম্বল হারিয়ে এখন নিঃস্ব।

📞 প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ফেরত আশ্বাস

💬 নাগরিক সমাজের ক্ষোভ

গাজীপুর নাগরিক কমিটির সভাপতি জুলীয়াস চৌধুরী বলেন,

“এই প্রতারণা কেলেঙ্কারি শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, সাংবাদিকতার পবিত্রতাকে কলঙ্কিত করার দুঃসাহসী অপচেষ্টা। আমরা চাই এস এম ইকবাল হোসেনকে আইনের আওতায় আনা হোক তবেই ভুক্তভোগীরা ফিরে পেতে পারেন তাদের মূলধন।

⚖️ আইনি প্রেক্ষাপট

২০১৩ সালের মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) অ্যাক্ট অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম ব্যবসা ও পিরামিড স্কিম নিষিদ্ধ। এই আইনে তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। প্রতারণার জন্য ক্ষতিপূরণসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের করেন

🚨 মূল হোতা ইকবাল হোসেন ও তারেক পলাতক

সূত্র জানায়, এই কেলেঙ্কারির প্রধান দুই পরিকল্পনাকারী এস এম ইকবাল হোসেন ও তারেক রহমান জাহাঙ্গীর অসংখ্য মানুষের টাকা হাতিয়ে গোপনে পালিয়ে গেছেন। তাদের অবস্থান এখনও নিশ্চিত না হলেও তারা বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন বলে প্রতারিত হওয়া ব্যাক্তিরা এমনটাই ধারণা করছেন ।

an adbox will go here