ঢাকায় জাতিসংঘের অফিস ‘আত্মঘাতী, প্রতিহত করবে তাওহীদি জনতা: নাজমুল হাসান কাসেমী - দিগন্ত জার্নাল

ঢাকায় জাতিসংঘের অফিস ‘আত্মঘাতী, প্রতিহত করবে তাওহীদি জনতা: নাজমুল হাসান কাসেমী

শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫ | ঢাকা | নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ‘চরম আত্মঘাতী ও দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ’ আখ্যা দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) জুমার পর ঢাকার মিরপুরে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন—

“বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্র। এখানে জাতিসংঘের ব্যানারে পশ্চিমা শক্তির কোনো গোপন এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে তা কেবল আমাদের জাতীয় স্বাধীনতাই নয়, বরং ইসলামি মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও পারিবারিক কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত হানে। এটি দেশের ঈমানদার জনতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না—প্রয়োজনে আত্মত্যাগের মাধ্যমেও প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ।”

‘জাতিসংঘ আসলে কী রক্ষা করবে?’—প্রশ্ন কাসেমীর

মাওলানা কাসেমী জাতিসংঘের অতীত ভূমিকাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেন:

“ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, ইয়েমেন—সবখানে মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে মার্কিন ও রুশ সাম্রাজ্যবাদে। ফিলিস্তিনের গণহত্যা, কাশ্মীরে নির্যাতন—জাতিসংঘ এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নিতে পারেনি। বরং এসব অপরাধ আড়াল করতেই তারা মানবাধিকারের নামে গোপন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ঢাকায় জাতিসংঘ অফিস হলে তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, পর্দা, সম্পদ বণ্টন, ধর্মীয় রীতিনীতি ও সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপের পথ খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সংবেদনশীল ইস্যুতে জাতিসংঘের আগের ভূমিকাও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।

ছাত্র জমিয়তের বক্তৃতায় ‘গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি’

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ নূর হোসাইন বলেন—

“২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের আত্মত্যাগের পর কোনো বিদেশি সংস্থা বা শক্তিকে দেশে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না। জাতিসংঘ অফিস খোলার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, যারা ২০২৪ সালের গণঅসন্তোষে শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে কোনো গোপন চুক্তি বাস্তবায়ন চলতে দেওয়া হবে না।

বিক্ষোভে আরো কারা কী বললেন?

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র জমিয়ত ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ আল হোসাইন এবং সঞ্চালনা করেন হাসান আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:

  • জমিয়তের নির্বাহী সদস্য ও নগর সহ-সভাপতি মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী
  • বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুল্লাহ গাজীপুরী, মাওলানা ইদ্রিস কাসেমী
  • ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ
  • ছাত্রনেতা রাহেবুল ইসলাম, ইয়াসীন আরাফাত, সাদ জুন্নুর, জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ

তারা সবাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, “জাতিসংঘ অফিস স্থাপনের মতো সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং দেশের জনগণের ইসলামি অনুভূতি ও জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।”

পাঠকের জন্য প্রেক্ষাপট সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ঢাকায় একটি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করে, যা নিয়ে দেশের বিভিন্ন ইসলামি দল ও নাগরিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষত ইসলামি দলগুলো এ পদক্ষেপকে ‘গোপন বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি’ হিসেবে দেখছে।

an adbox will go here