গণহত্যার দৃশ্যমান বিচারের দাবি জানাল জামায়াতে ইসলামী
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়েতের সমাবেশ, সাত দফা দাবি পেশ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
রোববার, ২০ জুলাই ২০২৫ | আগামীর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি লড়াই হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সেবক হতে চাই, দেশের মালিক নয়।”
তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যাসহ পুরানা পল্টন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচারের দাবি জানান। তাঁর ভাষায়, “সেদিন আবু সাঈদরা বুক না চিতিয়ে দিলে আজও অনেকে বাঁচতো না। এই শহীদদের অবমূল্যায়ন নয়, যথাযোগ্য সম্মান দিতে হবে।”
সমাবেশে অসুস্থ হন জামায়াত আমির
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঞ্চেই তিনি পড়ে যান এবং পরে বসেই নিজের বক্তব্য শেষ করেন। সমাবেশ শেষে তাঁকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে বিশাল জমায়েত
জামায়াতে ইসলামীর এটাই ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথম একক জাতীয় সমাবেশ। লাখো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সমাবেশ শুরুর নির্ধারিত সময়ের ছয় ঘণ্টা আগেই। অংশগ্রহণকারীরা রমনা পার্ক, শাহবাগ, মৎস্যভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কাকরাইল ও প্রেস ক্লাব এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন। তীব্র গরম উপেক্ষা করে নেতাদের বক্তব্য শোনেন তারা। সমাবেশে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো বাস, ট্রেন ও লঞ্চে নেতাকর্মীরা আসেন।
সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা ও ব্যবস্থাপনা
সকাল ১০টায় কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর হামদ, নাত ও ইসলামি সংগীত পরিবেশন করা হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য ছিল সাংকেতিক ভাষার ব্যবহার। অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে শহরের ১৫টি পয়েন্টে ছিল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প।
জামায়াতের সাত দফা দাবি
১. ৫ আগস্ট ও অন্যান্য সময় সংঘটিত সব গণহত্যার বিচার। ২. রাষ্ট্রের সব স্তরে মৌলিক সংস্কার। ৩. ঐতিহাসিক জুলাই সনদ ও ঘোষণার বাস্তবায়ন। ৪. শহীদ ও আহতদের পরিবার পুনর্বাসন। ৫. পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন। ৬. প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ। ৭. রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা।
নেতাদের বক্তব্যে জোরালো বার্তা
- ডা. শফিকুর রহমান (জামায়াত আমির): দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান, সংসদ সদস্যদের কোনো প্লট না নেওয়ার ঘোষণা, এবং স্বচ্ছ সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি।
- ডা. সৈয়দ তাহের (নায়েবে আমির): জামায়াত বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত দেন।
- মিয়া গোলাম পরওয়ার (সেক্রেটারি জেনারেল): ইসলামি শক্তির ওপর জুলুমের প্রতিবাদে এই সমাবেশ গণবিস্ফোরণ—মজলুমদের জন্যই দাঁড়িপাল্লায় প্রথম ভোট চান।
অন্য দল ও ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য
- আখতার হোসেন (এনসিপি): যারা পিআর পদ্ধতি চায় না, তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে।
- ইউনুস আহমদ (ইসলামী আন্দোলন): সাত দফা দাবি সমর্থনযোগ্য।
- আহমদ আব্দুল কাদের (খেলাফত মজলিস): নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবি।
- নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ): স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি।
- সারজিস আলম (এনসিপি): মুজিববাদকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে মোকাবেলার কথা বলেন।
- শহীদ পরিবারের সদস্যরা: জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বিচার দাবি ও সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি
ডিএমপির ১২ হাজারের বেশি পুলিশ এবং র্যাব তিনস্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। মোতায়েন করা হয় ডগ স্কোয়াড, বোম ডিসপোজাল ইউনিটসহ নানা বাহিনী। পুলিশ কমিশনার এসএন মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঢাকায় কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।