জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের প্রতিবাদে নেত্রকোনায় জমিয়তের বিক্ষোভ মিছিল
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫ | জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ঢাকায় স্থাপনের উদ্যোগের প্রতিবাদে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো নেত্রকোনাতেও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
নেত্রকোনা জেলা জমিয়তের আয়োজনে আজ শুক্রবার বাদ জুমা বড়বাজার জামে মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জমিয়তের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুফতি মো. তাহের কাসেমী। হাফেজ আবুল কাশেম ও আব্দুল হাদী ফরাজীর যৌথ সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন:
- কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আফজাল হোসাইন রাহমানী
- জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মফিজুর রহমান
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি আনোয়ার হোসাইন
- সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ফারুকী
- জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা রুহুল আমীন নগরী
- মোহনগঞ্জ উপজেলা জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান
- পূর্বধলা উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুস সালাম
- যুব জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মুফাজ্জল হোসাইন
- সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম খলিল
- যুব জমিয়ত নেতা মাওলানা আরমান হোসাইন বাকী
- ছাত্র জমিয়তের জেলা সভাপতি মাহমুদ হাসান
- সাধারণ সম্পাদক দিলোওয়ার হোসাইন ইফতি
🔉 বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে:
মুফতি তাহের কাসেমী বলেন,
“তথাকথিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের জনগণ চায় না। মানবাধিকারের নামে পশ্চিমা গোলামী বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।”
মুফতি আফজাল হোসাইন রাহমানী বলেন,
“সরকার বিদেশিদের সাথে যেসব চুক্তি করছে, তার কোনো বৈধতা নেই। জনগণ আপনাদের এই কাজের ম্যান্ডেট দেয়নি। দ্রুত নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিদায় নিতে হবে।”
মাওলানা রুহুল আমীন নগরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“ড. ইউনুসের ইস্যুতে জনগণ ফুঁসে উঠেছে। সরকার যদি দিল্লি বা ওয়াশিংটনের সেবা করে, তাহলে আরেকটি ‘জুলাই বিপ্লব’-এর ডাক দেওয়া হবে। ধর্মপ্রাণ জনতা তা রুখে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ।”
সমাবেশে বক্তারা দেশীয় স্বার্থরক্ষা, বিদেশী হস্তক্ষেপ রোধ এবং স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন (OHCHR)-এর আঞ্চলিক কার্যালয় ঢাকায় স্থাপন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জমিয়তের এই প্রতিবাদ সেই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় সংগঠিত হয়।