উপেক্ষিত নবাব সলিমুল্লাহর উত্তরসূরিরা, জন্মের দায় ভুলে গেছে ঢাবি: সেমিনারে বক্তারা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫ | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, আত্মপরিচয় ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, নবাব সলিমুল্লাহ, নবাব আলী চৌধুরী ও শেরে বাংলা ফজলুল হকের মতো ব্যক্তিত্বদের অবদান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভুলে গেছে। তারা বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হয়েছিল পূর্ব বাংলার গরিব মুসলমানদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষায়, কিন্তু আজ প্রতিষ্ঠানটি নিজেই তার জন্মের দায় এড়িয়ে চলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের শিরোনাম ছিল “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, রাজনীতি এবং প্রতিশ্রুতি”। এতে অংশ নেন লেখক, গবেষক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা।
“ঢাবি ভুলে গেছে নবাবদের অবদান” — ডা. ফাহমিদ-উর-রহমান
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও প্রাবন্ধিক ডা. ফাহমিদ-উর-রহমান। তিনি বলেন:
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাব সলিমুল্লাহ, নবাব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকেরা উপেক্ষিত। অথচ এই মানুষগুলোর হাত ধরেই পূর্ব বাংলার মুসলমানরা ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।”
তিনি বলেন, নবাব সলিমুল্লাহর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত ‘ইশারত মঞ্জিল জাদুঘর’ স্থাপন করা।
“ঢাবি হবে বাংলাদেশপন্থার বাতিঘর” — ড. মাহদি আমিন
সেমিনারে অংশ নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন বলেন:
“আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে হবে। সকল নাগরিককে সমান অধিকার দিয়ে, সততার সঙ্গে রাজনীতি চালাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“শহীদ জিয়ার সন্তানরা বাবার পোশাক ছোট করে পরেছেন—সেটাই প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। আমরা সেই আদর্শ ও সাহসিকতার রাজনীতি চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এই রাজনীতির সাহিত্যিক ব্যাখ্যা রচনা করতে হবে।”
🧠 “কেন বারবার হারি, তা ভাবতে হবে” — অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন,
“আমাদের পর্যালোচনা করতে হবে, কেন বারবার রক্ত দিচ্ছি, তবুও জিতেও হারছি। গত ১৭ বছর ঢাবির ছাত্র-শিক্ষকরা ফ্যাসিবাদকে কীভাবে টিকিয়ে রেখেছিল, তা প্রশ্ন তুলতে হবে।”
তিনি বলেন,
“নবাব সলিমুল্লাহ কেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝতে না পারলে আমরা ভবিষ্যতেও পথ হারাব।”
📢 জুলাই বিপ্লব ও স্লোগানের ভাষ্য — মীর সালমান শামিল

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মীর সালমান শামিল বলেন,
“জুলাই বিপ্লবে কিছু আইকনিক স্লোগান ছিল— ‘দিল্লি না ঢাকা: ঢাকা ঢাকা, ভারত যাদের মামু বাড়ি, দেশ ছাড়ো তাড়াতাড়ি, পেতে চাইলে মুক্তি, ছাড়ো ভারত ভক্তি, চশমাওয়ালা বুবুজান, নৌকা নিয়ে ভারত যান’।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এসব স্লোগানে ‘ভারত’ বলতে ভারতের শ্রমজীবী মানুষ নয়, বরং ভারতীয় রাষ্ট্রীয় এস্টাবলিশমেন্টকে বোঝানো হয়েছে।
“এই স্লোগানগুলো বাংলাদেশের জনগণের বহু দশকের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রতিফলন।”
🧾 ভারতীয় আধিপত্য ও ইতিহাসের উপেক্ষা
মীর শামিল আরও বলেন,
“ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের পূর্ব বাংলার প্রতি উপেক্ষা গত ৩০০ বছরের ইতিহাসে বারবার ফিরে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম ইতিহাসেও এই আধিপত্যের ছায়া রয়েছে। সলিমুল্লাহর নেতৃত্ব ছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয় হতো না।”
তিনি বলেন,
“৩৬ জুলাইয়ের পরবর্তী বাংলাদেশ নির্মাণে আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে পরিষ্কার বোঝাপড়া থাকতে হবে—যাতে আর কখনও ভারতের রাজনৈতিক ফাঁদে না পড়ি।”