বিএমডিএতে বেতনভাতায় বৈষম্যের অভিযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ - দিগন্ত জার্নাল

বিএমডিএতে বেতনভাতায় বৈষম্যের অভিযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রোববার, ২৭ জুলাই ২০২৫ | রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৩৫টি উপজেলায় বিস্তৃত বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-তে বেতনভাতা ও পদোন্নতি নিয়ে চরম বৈষম্য চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জনবল কাঠামো ও পদোন্নতি নীতিমালা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অব্যবস্থায় কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

১৯৮৫ সালে বরেন্দ্র সমন্বিত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯২ সালে বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প এবং পরে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিএমডিএ) রূপ নেয়। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে বিএমডিএ অধ্যাদেশ পাস হয়। তবে ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও অনুমোদিত জনবল কাঠামো না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, পদায়ন ও পদোন্নতিতে চলছে ব্যাপক বৈষম্য।

চলতি দায়িত্বে চলছে কার্যক্রম, তবুও নেই সুযোগ-সুবিধা

সূত্র জানায়, বিএমডিএতে বর্তমানে ১২৫ কর্মকর্তার মধ্যে ৯৫ জনই চলতি দায়িত্বে কর্মরত। তাদের মধ্যে অনেকে নিচের পদে থেকেও উচ্চ গ্রেডে সুবিধা পাচ্ছেন, আবার অনেকেই উচ্চ পদে থেকেও নিচের গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চলছে চরম বিশৃঙ্খলা।

ভারপ্রাপ্ত সচিব এনামুল কাদির বলেন, “চলতি দায়িত্বে অনেকে আছেন যারা শুধুমাত্র অভিজ্ঞতা ও কর্মমূল্যায়নের কারণে উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। তবে বেশিরভাগই মূল পদের গ্রেডেই বেতনভাতা পাচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, “জনবল কাঠামো না থাকায় অতীতে চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিচালকরা পদগুলোতে চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন। নতুন নির্বাহী পরিচালক এসেছেন, আশা করি এবার হয়তো অনুমোদিত কাঠামো পাওয়া যাবে।”

একাধিক প্রকৌশলী উচ্চ পদে, নেই কাঠামোগত স্বীকৃতি

বিএমডিএতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কোনো অনুমোদিত পদ না থাকলেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. শামসুল হোদা ও ড. মো. আবুল কাসেম। নির্বাহী প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন ৩৬ জন, সহকারী প্রকৌশলী পদে রয়েছেন ৪৩ জন প্রকৌশলী। হিসাব নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিভাগে আরও দুই কর্মকর্তা রয়েছেন চলতি দায়িত্বে।

চলতি দায়িত্বে কর্মরত হিসাব নিয়ন্ত্রক রোকনুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, “আমি ১০ বছর ধরে ষষ্ঠ গ্রেডের পদে কাজ করছি, অথচ বেতন পাচ্ছি তিন-চার ধাপ নিচের গ্রেডে।”

নিয়োগ নেই দীর্ঘদিন, বাড়ছে আউটসোর্সিংয়ের ওপর নির্ভরতা

২০০৩ ও ২০০৮ সালে সর্বশেষ নিয়োগের পর থেকে জনবল সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। একসময় ১,২৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৭০৩ জন। বাকি চাহিদা মেটানো হচ্ছে অস্থায়ী ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে।

কর্মকর্তাদের দাবি

বিএমডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, নীতিমালার অভাবে বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কেউ কেউ উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেও পাচ্ছেন না যথাযথ সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা।

তাদের মতে, এই বৈষম্য ও অনিশ্চয়তা বিএমডিএর কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অবিলম্বে জনবল কাঠামো ও পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়ন করে বেতন বৈষম্যের অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

an adbox will go here