কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ফ্যাসিজম গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামে ঝুলঝে ব্যানার
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
রোববার, ২৭ জুলাই ২০২৫ | গত বছরের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত ক্ষমতাচ্যুত এবং জুলাই গণহত্যা দায়ে বর্তমান দালীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১০ তলা বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভবনটি ছিল একেবারে পরিত্যক্ত। বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন, ভাঙচুরে মুখর ভবনটিতে তখন তৈরি হয় এক ভুতুড়ে পরিবেশ। তবে হঠাৎ করেই পরিবর্তন এসেছে দৃশ্যে—সম্প্রতি ভবনটিতে শুরু হয়েছে জোরেশোরে সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। তবে এসব কাজের পেছনে কারা, কী উদ্দেশ্য—তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
ভবনের প্রবেশপথে ঝুলছে একটি ব্যানার: “আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট”। তাতে স্পষ্ট হয় না কে বা কারা প্রতিষ্ঠানটির পেছনে রয়েছে। তবে কর্মরত শ্রমিকরা ভবন পরিষ্কার করছেন নিরলসভাবে—প্রতিদিন ১০–১২ জন শ্রমিক ভবনের ভাঙা টাইলস, ইটের গুঁড়া, নোংরা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কারে ব্যস্ত।
‘ফ্যাসিস্টদের ঠাঁই নয়’—অজানা পরিচয়ের তত্ত্বাবধানে কর্মসূচি কাজ তদারককারী হিসেবে উপস্থিত এক সাখাওয়াত হোসেন জানান, “এটা ফ্যাসিস্ট আমলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। আমরা চাই না এখান থেকে আবার ফ্যাসিজমের জন্ম হোক। সেজন্যই আমরা কার্যক্রম শুরু করছি।” তবে তিনি কে, কোন দলের প্রতিনিধি—সে বিষয়ে মুখ খুলেননি। এমনকি, সরকারের অনুমতির বিষয়েও বলেন, “আমাদের অনুমতির প্রয়োজন নেই।”
ছাত্র সংগঠন ও এনসিপি কী বলছে? সম্ভাব্য সংগঠন হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিংবা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাম ঘুরে বেড়ালেও উভয় সংগঠন এ বিষয়ে দায় নিচ্ছে না।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন বলেন, “আমরা বিষয়টি জানি না, এটি আমাদের দলীয় কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত নয়।” বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাত রশিদ বলেন, “আমরাও গণমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। তবে কারা করছে, জানার চেষ্টা করছি। এরপর মন্তব্য করব।”
পুলিশ জানে না, স্থানীয়দের উদ্বেগ ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি মো. শাহরিয়ার বলেন, “কারা ব্যানার লাগিয়ে কাজ করছে আমরা জানি না। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো নির্দেশনা পাইনি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভবনটি এতদিন পরিত্যক্ত থাকায় আশপাশে দুর্গন্ধ, ময়লা ও অপরাধীদের আড্ডা তৈরি হয়েছিল। এখন পরিষ্কার হচ্ছে দেখে কেউ কেউ স্বস্তি পেলেও, অজানা পরিচয়ের এ সংস্কার কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।
ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ বলেন, “কেউ বলছে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল করছে, কেউ বলছে আওয়ামী লীগ নিজেরাই লোক ভাড়া করে করছে। ব্যানার থাকলেও কেউ পরিচয় দিচ্ছে না—এতে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।”
এশের রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদের অন্যতম আস্তানা গেড়ে বসা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কার্যালয়: এক নজরে আওয়ামী লীগের এই কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত। আট কাঠা জমির ওপর ২০১৬ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয় অত্যাধুনিক ১০ তলা ভবনটি। দলটি ১৯৮১ সাল থেকে এ ঠিকানাটি ব্যবহার করে আসছিল এই ফ্যাসিস্ট দলটি। এর আগে দলীয় অফিস স্থানান্তরের ইতিহাস রয়েছে অন্তত আটবার।