চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার রিয়াদ ছিলেন কাদের মির্জার অস্ত্রধারী ক্যাডার - দিগন্ত জার্নাল

চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার রিয়াদ ছিলেন কাদের মির্জার অস্ত্রধারী ক্যাডার

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ | রাজধানীর গুলশানে ‘ছাত্র সমন্বয়ক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আবদুল রাজ্জাক সোলায়মান রিয়াদ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এক সময় বসুরহাট পৌরসভার পলাতক মেয়র এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ অস্ত্রধারী ক্যাডার ছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মি আহম্মেদের বাসায় ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেন রিয়াদ ও তার সহযোগী কাজী গৌরব অপু। দাবি পূরণ না করলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় তাকে। বিষয়টি শাম্মি আহম্মেদ গুলশান থানাকে জানালে, তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে রিয়াদসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় কাজী গৌরব অপু পালিয়ে যায়।

রিয়াদ বর্তমানে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি পদেও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা রিয়াদের বাবা একজন দিনমজুর, মাঝে মাঝে রিকশাও চালাতেন। অথচ ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রিয়াদের কাদের মির্জার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই সময় থেকেই তার জীবনে নাটকীয় পরিবর্তন আসে।

গ্রামের সাধারণ ছেলে থেকে হঠাৎ করেই দামি ব্র্যান্ডের পোশাকে অভ্যস্ত রিয়াদ, কুরবানির ঈদে লাখ টাকা মূল্যের গরু কোরবানি দেওয়া এবং দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণের মতো ব্যয়বহুল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে পড়েন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াদের এমন উত্থানের পেছনে কোনো দৃশ্যমান আয়ের উৎস ছিল না। বরং হঠাৎ প্রভাবশালী হয়ে উঠেই তিনি নিজেকে ছাত্রনেতা ও সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।

রিয়াদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলার পাশাপাশি তার অতীত এবং সম্পদের উৎস নিয়েও তদন্তে নামছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আরও বড় ধরনের চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

an adbox will go here