ঢাকা দখলের পরিকল্পনায় আ’লীগের নেতাকর্মীরা গে’রিলা প্রশিক্ষণের জড়িত
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার , ৩১ জুলাই ২০২৫ | দলীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আ’ও’মী লী’গের একাংশ নেতাকর্মী গে’রিলা ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে, যার লক্ষ্য ছিলো দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি ও সময় মতো রাজধানী ঢাকা দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। সরকারের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তালিকাভুক্ত হাজার হাজার নেতাকর্মী, যাদের মধ্যে কোর গ্রুপের অনেকে ইতোমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
সম্প্রতি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রে’ফ’তা’র হওয়া কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের একটি অংশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা বর্তমানে আ’ও’মী লী’গের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের কিছু সদস্যও এতে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে দিল্লি, কলকাতা, ঢাকা, গোপালগঞ্জসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে।
৮ জুলাই রাজধানীর একটি কনভেনশন হলে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রায় ৪০০ জন অংশ নেন, যেখানে সরকা’রবি’রোধী স্লোগানও দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির তথ্য পেয়ে ১৩ জুলাই রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিট অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রে’ফ’তা’র করে। তারা হলেন—সোহেল রানা (৪৮) ও শামীমা নাসরিন শম্পা (৪৬)।
সোহেল রানার বাড়ি বরগুনার তালতলী থানার মৌপাড়া গ্রামে এবং তিনি রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে বসবাস করেন। অপর গ্রে’ফ’তা’র শম্পার স্বামী আহাদুজ্জামান একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তাদের গ্রামের বাড়ি যথাক্রমে গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা দখল পরিকল্পনা। শেখ হা’সি’না’র নির্দেশ পেলেই তালিকাভুক্ত নেতাকর্মীরা শাহবাগে জড়ো হতেন এবং ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে গণআতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেন, যাতে মানুষ বুঝে নেয় রাজধানী ইতোমধ্যে তাদের দখলে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা আন্দোলনে নামার সাহস দেখাতেন, এবং সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হতো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডি’বি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার কামরুল হাসান বলেন, “এটি অনেক বড় একটি কর্মযজ্ঞ। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। আমরা একটু গুছিয়ে নিচ্ছি, পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসায় দলটির কৌশলগত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সরকার বিষয়টি জানার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মধ্যে রয়েছে:
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্ভরযোগ্য ইউনিট দিয়ে গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা।
- পরিকল্পনায় জড়িতদের ধাপে ধাপে গ্রে’ফ’তা’রের মাধ্যমে জাল বিস্তার।
- পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত অভিযান না হওয়া পর্যন্ত গোপন রাখা।
🔐 সরকার কী বলছে?
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “দেশে কোনো নাশকতার শ’ঙ্কা নেই। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ১১ দিনের একটি বিশেষ অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, এটি সারা দেশের অভিযান নয়, বরং ডিএমপির নিজস্ব পরিকল্পনার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।