ডাকসু নির্বাচনে শান্তি বজায় রাখতে প্রশংসিত পুলিশ
বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে সংশয় থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পুলিশের ভূমিকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বিশেষ করে ভোটের আগে ও পরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রশংসিত হয়েছে।
ভোটের আগেই রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি কমিশনারের সভাপতিত্বে একাধিক বৈঠকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। ভোটকেন্দ্র, যাতায়াত পথ, গণনার স্থানসহ সব কিছুর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। ডিএমপির ক্রাইম কন্ট্রোল সেন্টার থেকে সরাসরি তদারকির পাশাপাশি ওয়াকিটকিতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ফোর্স পাঠানো এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রায় এক মাস ধরে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কাজ করেছি। পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন ছিল।”
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কেন্দ্র ও প্রবেশপথে বিশেষ নজরদারি ছিল। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীদেরও যুক্ত করা হয়। তফসিল ঘোষণার পর কারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে, কারা বেশি সক্রিয়—এসব নিয়েও পুলিশের কড়া নজরদারি ছিল।
ডাকসুর ভোটকে কেন্দ্র করে শুধু পুলিশই নয়, র্যাব ও বিজিবিও মাঠে ছিল। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও প্রথাগত সোর্স থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে অবস্থান নিলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তবে পুলিশ প্রতিপক্ষদের একই স্থানে না রাখা, ব্যাগ তল্লাশি, ব্যারিকেড জোরদার, প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
এ ছাড়া পুলিশের সঙ্গে স্কাউটস, সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও সোয়াট টিমও সক্রিয় ছিল। যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশ বিকল্প সড়কে যানবাহন ঘুরিয়ে দেয়।
সবশেষে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করে পুলিশ। ফলে উত্তেজনায় ভরা ডাকসু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।