ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দিল্লিতে আলোচনায় জামায়াত - দিগন্ত জার্নাল

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দিল্লিতে আলোচনায় জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০২৬, বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬, দিল্লিতে জামায়াত আলোচনা, ভারত বাংলাদেশ কূটনীতি, জামায়াত ২.০, সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, শ্রীরাধা দত্ত বিশ্লেষণ, বিএনপি নির্বাচন প্রস্তুতি, বাংলাদেশ রাজনীতি ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবরদক:

বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে দেশে নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এবার এ উত্তাপ বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও। দিল্লির রাজনৈতিক মহল ও বিশ্লেষকদের আলোচনায় এখন প্রধান প্রসঙ্গ—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কী হওয়া উচিত।

ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী প্রায় সব আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বিএনপিও মাঠপর্যায়ে জরিপ চালাচ্ছে প্রার্থী নির্ধারণে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতকে এখন ‘জামায়াত ২.০’ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের দাপুটে জয়ও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভারতের পর্যবেক্ষক শ্রীরাধা দত্ত জানিয়েছেন, জামায়াতের নতুন প্রজন্মের নেতারা জিনস-টি-শার্ট পরে টকশোতে অংশ নিচ্ছেন এবং নতুন ধ্যানধারণার কথা বলছেন। ঢাকা সফরে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াত এখন আর শরিয়া আইন বা মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আগের অবস্থান ধরে রাখছে না, বরং নতুনভাবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।

তবে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এর বিপরীত অবস্থান জানিয়েছেন। তার মতে, মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় জামায়াতের ভূমিকা ও অতীতের রেকর্ড ভারতের কাছে অগ্রাহ্যযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “চিতাবাঘ যেমন ডোরা বদলায় না, জামায়াতও কখনো তাদের চরিত্র পাল্টাবে না।”

সব মিলিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন এক জটিল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক দ্বিধার সৃষ্টি করেছে।

an adbox will go here