BNP-জামায়াতকে ভারত কেন একসঙ্গে দেখছে, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
মঙ্গলবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামি লিগের দেওয়া চশমায় নয়াদিল্লি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামিকে একই বন্ধনীতে দেখে ভুল করেছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বিএনপি আর কখনও জামায়াতকে মাথায় উঠতে দেবে না। সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে দলের দপ্তরে ভারতের অনলাইন দৈনিক এই সময়-এর সাংবাদিক অনমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং উৎসবের মতো নির্বাচন হবে। তিনি দাবি করেন, কোনও অশান্তি বা রক্তপাত হবে না। মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার প্রবল আগ্রহ রয়েছে।
জামায়াত ইসলামি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি ছাড়া ভোটে অংশ নেবে না বলে যে দাবি তুলছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে। জামায়াতও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে এনসিপিকে তিনি গুরুত্বহীন শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, জামায়াত বিএনপির কাছে ৩০টি আসন দাবি করেছিল, কিন্তু বিএনপি তাতে সাড়া দেয়নি। আলমগীরের বক্তব্য, “আপনাদের আশ্বস্ত করছি, জামায়াতকে আর আমরা মাথায় উঠতে দেবো না। তারা যত বড় শক্তি নয়, আমরা অতীতে অকারণে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।”
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিস্থিতি বদলেছে এবং এখন তিনি নির্বাচন করাতে আন্তরিক। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে তাঁর আলোচনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। সেনাপ্রধান ডিসেম্বরে নয়, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করাতে সম্মত হয়েছেন এবং সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফেরাতে চান বলেও জানান।
ইউনূসের দেওয়া বার্তার প্রসঙ্গে আলমগীর বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে মার্চ থেকে তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না। ফলে নির্বাচন না হলে দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
আওয়ামি লিগ ও তাদের শরিকদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি চায় আওয়ামি লিগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। তবে শেখ হাসিনার আমলে যেভাবে প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি, সে পথে বিএনপি যাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশের পাশে ছিল, এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। ভৌগোলিক কারণে ভারতের প্রভাব থাকবেই। কিন্তু সমস্যার জায়গা হলো, ভারত বাংলাদেশকে আওয়ামি লিগ দিয়েই বুঝতে চেয়েছে। আওয়ামির প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে বিএনপি ও জামায়াতকে এক কাতারে রেখেছে। অথচ বিএনপি অসাম্প্রদায়িক, মধ্যপন্থী গণতান্ত্রিক দল, যারা মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান রক্ষায় লড়াই করছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি আর কখনও জামায়াতকে সুবিধা নিতে দেবে না। একই সঙ্গে ভারতকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি। আলমগীর বলেন, “আমরা কলকাতা যাব, বই কিনব, সিনেমা-থিয়েটার দেখব, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হবে, মানুষে মানুষে অবাধ যোগাযোগ হবে। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক।”
এই সাক্ষাৎকারটি ভারতের অনলাইন দৈনিক এই সময় অনলাইন এ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এই সময় অনলাইন।