ইউটিউব লাইভে: ৫০ বছর পর আবারও আমি মেজর ডালিম বলছি
নিজস্ব প্রতিবেদক, দিগন্ত জার্নাল:
দীর্ঘদিন ৫০ বছর আঁড়ালে থাকার পর অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউবে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চালনায় একটি লাইভে উপস্থিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর ডালিম (বীর বিক্রম)। রোববার (৫ জানুয়ারি২০২৫) রাতে “ঐতিহাসিক এক লাইভে যুক্ত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর ডালিম (বীর বিক্রম)” শিরোনামের এই আলোচনায় তিনি মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।
শেখ মুজিবুর রহমানের শাসন ও মৃত্যু প্রসঙ্গ
মেজর ডালিম আলোচনার এক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল ও তার মৃত্যু নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মুজিব মারা যায়নি, একটি সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছেন। বাকশাল বিদায়ের পরে কোটি কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে শুকরিয়া আদায় করেছে।” মুজিবের শাসনকালকে তিনি স্বৈরাচারী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “তখন মানুষ রবের কাছে মুক্তি চেয়েছিল তার জুলুমের অবসানের জন্য।”
মেজর জিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ ডালিম বলেন, মেজর জিয়াউর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে মেজর ডালিম বলেন, “মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে মনে হলো, আর বসে থাকার সময় নেই। তখনই আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি।” মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান আর্মিতে থাকা অবস্থায় তার ভেতরে পরিবর্তনের যে উদ্দীপনা এসেছিল, তা তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সাতদফা চুক্তি ও ভারতের প্রভাব: ১৯৭১ সালের সাতদফা চুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, “নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দিন যখন প্রভিশনাল গভর্নমেন্ট গঠনের জন্য চুক্তি করলেন, তখন চুক্তির ধারা পড়ে মনে হয়েছিল, বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত হবে।” মেজর ডালিম সম্প্রসারণবাদী ভারতের প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে ৭১-এর মতো আরেকটি স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংগীত নিয়ে প্রশ্ন: জাতীয় সংগীত প্রসঙ্গে মেজর ডালিম বলেন, “বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা না হয়ে কাজী নজরুল ইসলাম বা অন্যান্য দেশীয় কবিদের গান হতে পারত। এটি একটি ভিনদেশী কবির গান, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।” তিনি জাতীয় সংগীতের বিষয়ে জনগণের মধ্যে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা: ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্যে থাকা ছাত্র-জনতাকে উদ্দেশ করে মেজর ডালিম বলেন, “বর্তমানে আমরা সম্প্রসারণবাদী শক্তির কব্জায় চলে যাচ্ছি। সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ৭১-এর মতো আরেকটি বিপ্লবের প্রয়োজন।”
মেজর ডালিমের এই লাইভে উপস্থাপিত বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্যের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি শিক্ষণীয় বার্তা হয়ে উঠতে পারে।