ইসকন ভারতের ‘র’ এর হাতিয়ার—অভিযোগ সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের
ইসকন হিন্দুধর্ম নয়, ভারতের ‘র’ এর হাতিয়ার—অভিযোগ সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | দিগন্ত জার্নাল | শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশে সক্রিয় আন্তর্জাতিক হিন্দু সংগঠন ইসকন (ISKCON) কোনোভাবেই মূলধারার হিন্দুধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং এটি বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত একটি গোয়েন্দাবান্ধব সংগঠন—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। সংগঠনটির দাবি, ইসকনের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগ (র)—এর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে এবং এই সংগঠনের আড়ালে বাংলাদেশে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক তীব্র ভাষার বিবৃতিতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক বলেন, “ইসকন কোনো ধর্মীয় সংগঠন নয়, এটি একটি বিদেশি প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম। ইসকন নিষিদ্ধের দাবিকে যারা হিন্দুবিরোধী বলে প্রচার করছে, তারা আসলে ভারতের র-এর এজেন্ডা ঢাকতে চাইছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় হিন্দু সম্প্রদায় ইসকনের সঙ্গে নেই। বরং ইসকনের আগ্রাসী নীতি ও গোপন সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক হিন্দুদের বিপদে ফেলছে। ইসকনের প্রকৃত লক্ষ্য বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্য বাড়ানো।”
থোয়াই চিং মং শাক অভিযোগ করেন, ইসকনের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, বিদেশি অর্থায়নে গোপন নাশকতার প্রস্তুতি, ধর্মীয় উসকানি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরির বহু প্রমাণ রয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইসকনের কার্যক্রম তদন্তের আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তদন্তে যুক্ত করার দাবি করেন।
হিন্দু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে তিনি বলেন
“ইসকন নিষিদ্ধের দাবি কোনোভাবেই হিন্দুবিরোধী নয়। ইসকন হিন্দু ধর্মের নামে বাংলাদেশে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। দেশের প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিন্দুরা ইসকনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”
✅ সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের পাঁচ দফা দাবি
| ক্র. নং | দাবি |
|---|---|
| ১ | বাংলাদেশে ইসকনের সব কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তদন্ত |
| ২ | বিদেশি গোয়েন্দা সংযোগ প্রমাণ হলে ইসকন নিষিদ্ধ |
| ৩ | ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের গ্রেপ্তার |
| ৪ | হিন্দুধর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধ |
| ৫ | পাহাড় ও সমতলে ইসকনের ভূমি দখল তদন্ত |
বিবৃতির শেষে তিনি ঘোষণা দেন, “ইসকন রাষ্ট্রবিরোধী প্রমাণিত হলে নিষিদ্ধ করতেই হবে। এ বিষয়ে আমরা শিগগিরই দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালু করব।”