সংবিধান সংস্কারে প্রধান পাঁচ সুপারিশ - দিগন্ত জার্নাল

সংবিধান সংস্কারে প্রধান পাঁচ সুপারিশ

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
সংবিধান সংস্কারে গঠিত কমিশন আজ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদনে ক্ষমতা কাঠামো, সংসদীয় ধরন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

১. ক্ষমতার ভারসাম্য: বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থা ক্রমে প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। কমিশনের সুপারিশে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি এবং তিনটি অঙ্গের (আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ) মধ্যে সমন্বয় সাধনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

২. সংসদে দুই কক্ষ প্রবর্তন: বর্তমানে এককক্ষবিশিষ্ট সংসদে আসন সংখ্যা ৩৫০। প্রস্তাবে নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা ৪০০ এবং উচ্চকক্ষে ১০৫ আসন প্রবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নিম্নকক্ষের ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, তবে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৩. ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্যদের পদ খারিজ হয়। কমিশন এ বিষয়ে জবাবদিহিতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংস্কারের সুপারিশ করেছে।

৪. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করতে আলাদা সচিবালয় তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগ যেন নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীল না হয়, সে জন্য বাজেট বরাদ্দ সরাসরি কনসোলিডেটেড ফান্ড থেকে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

৫. স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সরাসরি বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা নিশ্চিত করার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া: অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে নয় সদস্যের কমিশন তিন মাস ধরে প্রায় এক লাখ মানুষের মতামত নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। প্রতিবেদনের মূল অংশে সুপারিশগুলো এবং এর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

an adbox will go here