সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব জমা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
রাষ্ট্র সংস্কারের ছয় কমিশনের মধ্যে চারটি—নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও সংবিধান সংস্কার কমিশন—তাদের সুপারিশ প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কমিশন প্রধানরা এসব প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
সংশোধিত সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে একাধিক সুপারিশ এসেছে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করে নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শদাতা হিসেবে রাখার বিধান বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার সুপারিশে নিম্নকক্ষে ৪০০ আসন, যার মধ্যে ১০০টি সরাসরি ভোটে নারীদের জন্য সংরক্ষিত, এবং উচ্চকক্ষে ১০৫ আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সংস্কারে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। এছাড়া নিয়োগ ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পর্কে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), সিআইডি এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়া কমিশনগুলোর পাশাপাশি বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের মেয়াদ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জমাকৃত সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং পরামর্শ সভার মাধ্যমে সংস্কার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের ছয়টি খাতের জন্য কমিশন গঠন করেছিল। এই পদক্ষেপকে সাম্য ও সুশাসন নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।