নেত্রকোনায় সূর্যের দেখা নেই দুই দিন, কনকনে শীতে বাড়ছে দুর্ভোগ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
নেত্রকোনায় গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। মৃদু হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কুয়াশায় দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। শীত নিবারণে মোটা জামাকাপড় গায়ে দিয়ে ও খড়কুটো জ্বালিয়ে তীব্র শীত সহ্য করার চেষ্টা করছেন অসহায় মানুষ।
বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং নিম্ন আয়ের মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মোহনগঞ্জের অটোরিকশাচালক আকবর আলী জানান, ‘কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে ভোরে গাড়ি চালানো কঠিন। যাত্রীও কম। আগে দিনে ৫০০ টাকা আয় হতো, এখন ৩০০ টাকাও হয় না।’
এদিকে, হাওরাঞ্চলের মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন। কারণ, এই সময়ে বোরো ধান চাষের ব্যস্ততা চলছে। কৃষকরা জানান, অতিরিক্ত টাকা দিয়েও কৃষিশ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। খালিয়াজুরী উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের কৃষক আলম মিয়া বলেন, ‘বোরো ধান আমাদের একমাত্র ফসল। শীতের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তবুও আবাদ বন্ধ রাখা যাচ্ছে না।’
ঠান্ডাজনিত রোগের প্রভাব:
তীব্র শীতে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বেড়ে গেছে। নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু সাঈদ মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ‘ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।’
উপশমের উদ্যোগ:
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস বলেন, ‘জেলার ১০টি উপজেলায় শীতার্তদের জন্য সরকারি কম্বল বিতরণ চলছে।’
অস্থায়ী ত্রাণসামগ্রী পেলেও এই শীতে মানুষের দুর্ভোগ কমছে না। জরুরি ভিত্তিতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।