ধানমন্ডি ৩২: ইতিহাসের নতুন মোড়ে জনতার প্রতিরোধ
নিজস্ব প্রতিবেদক। দিগন্ত জার্নাল
ঢাকা | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে শুরু হলো প্রতীকী পরিবর্তনের অধ্যায়।
বুধবার রাত ৮টার দিকে হাজারো শিক্ষার্থী ও জনতা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ধানমন্ডি ৩২-এ জড়ো হন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, আন্দোলন আর শোষণের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা জনতার ঢল বাড়িটির মূল ফটক ভেঙে ফেলে। প্রবেশের পর তারা দেয়ালে লেখা বিভিন্ন শ্লোগান মোছার পাশাপাশি বাড়ির অভ্যন্তরে ভাঙচুর করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়, যা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে এক্সকাভেটর এনে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের কণ্ঠে তখন একটাই স্লোগান— “শোষণের চিহ্ন মোচন কর, বৈষম্যের দুর্গ ভেঙে দাও!”
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উসকানি ও প্রতিরোধ
আন্দোলনের এই পর্যায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখে পালিয়ে যায়। জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সংগঠন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। কিন্তু জনগণের বিজয়ের পর তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।
ইতিহাসের নতুন মোড়
জুলাই বিপ্লবের হাত ধরে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের এই দৃশ্য অনেকের কাছেই এক নতুন বাস্তবতা। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে যে পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল, তার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছে ধাপে ধাপে। ছাত্র-জনতার দাবি, ধানমন্ডি ৩২ এখন শুধু একটি ভবন নয়; এটি একটি প্রতীক, যেখানে স্বাধীনতার নামে ক্ষমতার অপব্যবহার, লুটপাট ও নিপীড়নের চিত্র খোদাই করা ছিল।
আন্দোলনের পটভূমি
জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ এখন নতুন কাঠামোয় রূপ নিচ্ছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, গণমানুষের বিজয় চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ চলবে। এই পরিবর্তন শুধু একটি সরকারের পতন নয়, বরং পুরো শাসনব্যবস্থার আমূল সংস্কার।
ধানমন্ডি ৩২-এ জনতার এই প্রতিরোধের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের চেতনার আরেকটি ধাপ সম্পন্ন হলো। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন এখন ইতিহাসের অংশ, যা বাংলাদেশের নতুন পথচলার ভিত্তি হয়ে থাকবে।
(দিগন্ত জার্নাল | সাম্যের আহ্বানে)