আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে? যা জানালেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে দলটি নিষিদ্ধ করার পক্ষে একমত হয়েছে।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি চারটি আইন রয়েছে, যার মাধ্যমে সরকার নির্বাহী আদেশেও নিষিদ্ধ করতে পারে। তবে সরকার এখনো আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করেনি। তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা বিচারিকভাবে প্রমাণিত হলে দলটির নিবন্ধন বাতিলসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। দেশের মানুষ চাইছে, যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, তারা যেন আর কখনো রাজনীতিতে ফিরে আসতে না পারে।
এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের চিন্তা করছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ। তবে দলটির আনুষ্ঠানিক নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে নতুন দলটির আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা চলছে।
নতুন দল গঠনে সরকারের কোনো প্রতিনিধি থাকবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব নিয়েছে। যারা নতুন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে চান, তাদের সরকার থেকে সরে গিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমান সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি মনে করেন, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করলে নতুন কোনো দল ক্ষমতায় এলেও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। তাই সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। জনগণ যে পরিবর্তন চায়, আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করব।”