হাসিনার পতনের পর নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং নতুন রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে আত্মপ্রকাশ করে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে গঠিত এই সংগঠন থেকেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা আসে।
নতুন দল গঠনের ঘোষণার পর থেকেই দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কীভাবে দল গঠন হবে, কারা নেতৃত্বে থাকবেন— এসব প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের কেন্দ্র করেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক হিসেবে দেখতে চাইছেন শীর্ষ নেতারা। যদি তিনি চূড়ান্ত হন, তবে তিনি সরকারের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। অন্যদিকে, সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেনের নাম সামনে আসছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক কমিটির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাসনাত আবদুল্লাহ, আরিফ সোহেল এবং নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হতে পারে। তার আগে দলের নাম চূড়ান্ত করা হবে। জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বলেন, ‘যারা আন্দোলনের সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, রাজনীতি বোঝেন, তরুণদের মধ্যে অভিজ্ঞ—তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। তরুণদের নেতৃত্বেই দল হবে এবং এটি গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করবে।’ জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হলো নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বর্জন, পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তারা আরও জানান, নতুন দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিশ্চিত করা হবে। কেউ চাইলে দীর্ঘ সময় দলের শীর্ষ পদ ধরে রাখতে পারবেন না। দেশব্যাপী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়েই দলটির নীতি নির্ধারণ করা হচ্ছে।
নতুন দল গঠনের পরও জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিলুপ্ত হবে না। তারা পৃথক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, ‘নতুন দলের ঘোষণা কবে হবে এবং কারা নেতৃত্বে আসবেন, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সবাইকে চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’