হাসিনার সম্মতিতে এদেশে পরিকল্পিত মাদক সন্ত্রাস গড়ে ওঠে
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বাংলাদেশে মাদক-সন্ত্রাসের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও এবার ভয়ংকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে ইয়াবার বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল যুবসমাজকে ধ্বংস করা এবং দেশের অর্থনীতি দুর্বল করা। অভিযোগ করা হয়েছে, কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ইয়াবা গডফাদার আবদুর রহমান বদি সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এতে জড়িত ছিলেন।
গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের মতে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক শহিদুল হক এই মাদক সন্ত্রাসের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা ইয়াবা ব্যবসা থেকে নিয়মিত কমিশন নিতেন। গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ধমক দেন, যার ফলে মাদক-সন্ত্রাসে তাঁর নীরব সম্মতির অভিযোগ উঠেছে।
২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের আগে গোয়েন্দা সংস্থা চেষ্টা করেছিল, আবদুর রহমান বদি এবং তার স্ত্রীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য, তবে ওবায়দুল কাদের এবং আসাদুজ্জামান খানের তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়। মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমান্তে ইয়াবা প্রবাহিত হচ্ছিল, এবং এর থেকে শীর্ষ নেতারা লাভবান হচ্ছিলেন।
এদিকে, মাদক বিরোধী অভিযান চালানোর নামে শত শত মানুষকে বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হলেও, প্রকৃত গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। ইয়াবা কারবারির তথ্য ফাঁস করায় হাজি সাইফুল আলম নামের একজন ইয়াবা মাফিয়াকে হত্যা করা হয়, এবং তার তথ্য জনসমক্ষে আসার পর মাদক বিরোধী অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্ন উঠেছে।
গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুলিশ দাবি করে, এই মাদক সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি দুর্বল করা এবং যুবসমাজকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের নেতাদের নামে অভিযোগ থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এবং মাদক কারবারের সঙ্গী হওয়ার বিষয়টি বহু সময় ধরে আড়াল করা হয়েছে।
এছাড়া, মাদক নির্মূলের নামে চলা অভিযানে উচ্চপর্যায়ের নেতাদের নামে বারবার অভিযোগ উঠলেও, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা এই চক্রের পেছনে রাজনৈতিক আশ্রয় ও সহযোগিতা থাকার ইঙ্গিত দেয়।