কুয়েট উপাচার্যের বাসভবনে তালা দিলো শিক্ষার্থীরা, উত্তপ্ত পরিস্থিতি
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিল সহকারে গিয়ে বাসভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর আগে ‘রক্তাক্ত কুয়েট’ শিরোনামে হামলার ছবি প্রদর্শনী করেন তারা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ ওয়েলফেয়ার সেন্টারে এ প্রদর্শনী শুরু হয়। এতে ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত সহিংসতার ছবি তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তা করবে।
উপাচার্যের বাসভবনে তালা, তদন্ত কমিটিতে অনাস্থা
রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাছুদের বাসভবনে তালা লাগিয়ে দেন। তারা অভিযোগ করেন, হামলার প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত না করে উল্টো সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে কোনোভাবে লাঞ্ছিত করিনি, তার শরীরে একটি টোকা দেওয়ারও কোনো প্রমাণ নেই। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
তারা আরও বলেন, ‘হামলার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি থাকার পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ তদন্ত কমিটিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাউকে রাখা হয়নি, তাই এ কমিটিতে আমাদের আস্থা নেই।’
ক্যাম্পাস রাজনীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সমীকরণ
কুয়েটের সাম্প্রতিক সহিংসতা ঘিরে ক্যাম্পাস রাজনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বও সামনে এসেছে। জানা গেছে, পূর্বের উপাচার্যের পদত্যাগের পর বর্তমান উপাচার্য যোগদান করলে সিন্ডিকেট সভায় উপ-উপাচার্যের ক্ষমতা হ্রাস করা হয় এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আনা হয়।
এছাড়া, নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বরখাস্ত করেন, যা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায়নি। ফলে, প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে নানা পক্ষের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।
অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, উপাচার্যের পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ একটি মহল তাকে বিতর্কিত করতে চাইছে। অন্যদিকে, বিএনপির একটি অংশ তার সঙ্গে থাকলেও দলের অনেক ঊর্ধ্বতন নেতার সঙ্গে তার দূরত্ব রয়েছে। ফলে, সাম্প্রতিক ঘটনার নেপথ্যে কার লাভ-কার ক্ষতির সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া
কুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদর্শকের ভূমিকা যথাযথ নয়, আমরা এটি খতিয়ে দেখছি। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সবকিছু করা হচ্ছে।’
অবস্থা জটিল, সমাধানের আশায় শিক্ষার্থীরা
বর্তমানে কুয়েটে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, সেটি এখন দেখার বিষয়।
— দিগন্ত জার্নাল | সাম্যের আহ্বানে।