ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে ৪৫টি ফ্লাইট কমালো বিদেশি এয়ারলাইন্স
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ডলার সংকটের কারণে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ৪৫টি ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। এতে আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের চাপ বেড়েছে এবং টিকিটের দাম হুহু করে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে, যার মধ্যে ডলার সংকট, উচ্চ ভ্রমণ কর, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ, ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিপত্রের নির্দেশনা অন্যতম।
এয়ারলাইন্সগুলো সরকারের নতুন পরিপত্রের কারণে ক্ষুব্ধ। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো বিমান সংস্থা তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টার বেশি কোনো টিকিটের বুকিং রাখতে পারবে না। একই সঙ্গে বুকিং দেওয়া টিকিট তিন দিনের মধ্যে যাত্রীর নামে ইস্যু করতে হবে। তবে, এই সিদ্ধান্তে বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এয়ারলাইন্স মালিকদের সংগঠন ‘বোর্ড অব এয়ারলাইন রিপ্রেজেন্টেটিভস বাংলাদেশ’ (বার) একাধিক বৈঠক করেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি।
বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর মতে, টিকিট বিক্রির ২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ আটকে রয়েছে দেশের ব্যাংকগুলোতে, যা তারা সময়মতো দেশে পাঠাতে পারছে না। এ কারণে, এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি করেছে এবং ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়েছে। এদিকে, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের কারণে দেশের ট্রাভেল এজেন্টদের মধ্যে অগ্রিম গ্রুপ বুকিং বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে, বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সব টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং পুরো অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে চলে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আকাশপথের টিকিট ব্যবসার পুরো অর্থই বিদেশে পাচারের শঙ্কা রয়েছে। এয়ারলাইন্স মালিকরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন জানিয়েছেন এবং তাদের দাবি, যে ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন আইন ও প্রতিযোগিতা আইনবিরোধী।
এদিকে, এফডি অর্গানাইজেশন অব এয়ারলাইন রিপ্রেজেন্টেটিভস বাংলাদেশ (বার) সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য চিঠি দিয়েছে। তাদের মতে, যদি এই বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকে, তাহলে বাংলাদেশে ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি পুরোপুরি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে চলে যাবে।
এই পরিস্থিতি অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং টিকিটের দাম বৃদ্ধির কারণে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অনুপ কুমার তালুকদার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে, ঢাকা থেকে ২১টি এবং চট্টগ্রাম থেকে ২৪টি ফ্লাইট কমানো হয়েছে, যার ফলে সপ্তাহে ৯ হাজারের বেশি আসন কমে গেছে। পাশাপাশি, বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ফ্লাইট কমিয়ে চলেছে, যেমন সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, মালিন্দো, ওমান এয়ার, ফ্লাই দুবাই, ক্যাথে প্যাসেফিক, জাজিরা এয়ারলাইন্স এবং কুয়েত এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহণ খাতে এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের বিমানভ্রমণ বাজার ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।