ভারতের আশ্রয়ে হাসিনাসহ ৪৫ হাজার পলাতক নেতাকর্মীর দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন শহরে নির্বিঘ্ন আশ্রয়ে থেকে বাংলাদেশ ঘিরে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন পলাতক জুলাই বিপ্লবের অন্যতম গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা কলকাতাসহ ভারতে অন্যান্য অঞ্চলের মাটি অভয়ারণ্য বানিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে কলকাঠি নাড়ছেন। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী, তালিকাভুক্ত অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী, সীমান্তবর্তী স্মাগলার, সর্বহারা গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পার্বত্য অঞ্চল অশান্ত করতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জুলাই বিপ্লবের গণহত্যাকারী পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ৪৫ হাজার নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে গেছে, যার অধিকাংশই কলকাতায় অবস্থান করছে। তারা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করতে নানা ষড়যন্ত্র করছেন।
দেশ অস্থিতিশীল হলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে এবং নির্বাচন বানচাল করা যাবে—এমন ধারণা থেকে এই পলাতক নেতারা কলকাতাকে ‘হেডকোয়ার্টার’ বানিয়ে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। দলীয় কর্মকাণ্ড দেখভাল করছেন আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য সংগ্রহ করছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আর কলকাতা থেকে ভিডিও বার্তায় কর্মসূচি দিচ্ছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।
পলাতক নেতাদের বেশিরভাগ দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামে অবস্থান করছে। কলকাতার রাজারহাট-নিউটাউন, পার্ক স্ট্রিট, সল্টলেক, নিউ আলীপুর, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ এলাকাগুলো তাদের নিরাপদ আস্তানা।
পালানোর ক্ষেত্রে তারা সিলেটের কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, সনাতনপুঞ্জি ও ডোনা, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, নেত্রকোনা, দিনাজপুরের হিলি, যশোরের বেনাপোল ও পুটখালী, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা এবং লালমনিরহাটের দহগ্রাম সীমান্ত ব্যবহার করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমসহ শীর্ষ নেতারা। দিল্লিতে অবস্থান করছেন আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, মাহবুবউল আলম হানিফ, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শামীম ওসমান, শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ সালাউদ্দীন, নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল রহমান (ভিপি) লিটনসহ এমন বহু প্রভাবশালী নেতা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সংঘাত, পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হানাহানির পেছনেও রয়েছে এই পলাতক নেতাদের ষড়যন্ত্র। কলকাতার মাটিকে অভয়ারণ্য বানিয়ে তারা বাংলাদেশকে অগ্নিগর্ভ করে তোলার অপচেষ্টায় লিপ্ত।