ভারতে বসে পুলিশে এবং দেশে ‘অস্থিরতা’ সৃষ্টির প্লেন করছে কামাল-নানকরা - দিগন্ত জার্নাল

ভারতে বসে পুলিশে এবং দেশে ‘অস্থিরতা’ সৃষ্টির প্লেন করছে কামাল-নানকরা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :

৫ আগস্টের পর, পতিত শাসক দলের প্রায় ৪৫ হাজার নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে গেছেন, যাদের অধিকাংশই অবস্থান করছেন কলকাতায়। সেখানে নির্বিঘ্ন আশ্রয়ে থেকে তারা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন। কলকাতার মাটি তারা অভয়ারণ্যের মতো ব্যবহার করে, বাংলাদেশকে অগ্নিগর্ভ করে তুলতে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।

পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা বিভিন্ন ডিজিটাল ও সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন, যেমন ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল ও হোয়াটসআপ গ্রুপ। এর মাধ্যমে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা অপকর্মের নির্দেশনা প্রদান করছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য এই চক্রটি নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাদের মধ্যে দলের কর্মকাণ্ড দেখভাল করছেন আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, এমনকি গোপন তথ্য সংগ্রহ করছেন। পুলিশের মধ্যে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং তারা পুরোপুরি কাজে মনোযোগ দিতে পারছে না, তার পেছনে সাবেক এই মন্ত্রীর মদত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, কোর কমিটি গঠন করেছে এই নেতারা, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম। জাহাঙ্গীর কবির নানক কলকাতা থেকে বারবার ভিডিও বার্তা দিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং কলকাতায় বসে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তাদরে কাজের সহযোগিতা রয়েছে নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান ভিপি লিটনদের মত অসংখ্য নেতা কর্মী।

এই নেতারা বাংলাদেশের বিভিন্ন সন্ত্রাসী, ভাড়াটে কিলার, মাদক ব্যবসায়ী, সোনা কারবারি, সীমান্তবর্তী স্মাগলার এবং সশস্ত্র সর্বহারা গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাদের ইশারায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অশান্তি তৈরি হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং পার্বত্য অঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টির পেছনেও তাদের হাত রয়েছে।

এদের ধারণা, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হবে, এবং শেখ হাসিনাসহ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়াও ব্যাহত করা যাবে।

কলকাতায় অবস্থানকারী দলের নেতারা দাবি করেছেন, তারা পালিয়ে আসেননি, বরং কৌশলগত কারণে আত্মগোপনে আছেন। তারা বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এর মাধ্যমে তারা দলীয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন এবং দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

কলকাতার বিভিন্ন স্থান, যেমন রাজারহাট-নিউটাউন, পার্ক স্ট্রিট, সল্টলেক, নিউ আলীপুর, ভবানীপুর, বালিগঞ্জসহ শহরজুড়ে এসব নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এদের মধ্যে অনেকেই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নিজেদের মধ্যে বৈঠক করছেন।

এছাড়া, কলকাতায় অবস্থানরত বেশ কিছু শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার সম্পর্কে জানা গেছে, যারা বর্তমানে দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামে অবস্থান করছেন। এই নেতারা বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে থেকে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন এবং দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

an adbox will go here