মাগুরায় শিশুকে ধ’র্ষণের মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক। দিগন্ত জার্নাল
মাগুরায় আট বছরের এক শিশু ধ’র্ষণের ঘটনায় দায়ের মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারী ও শিশু নি’র্যা’তন দমন ট্রাইব্যুনালকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর আগে, শনিবার সকালে শিশুটির মা নারী ও শিশু নি’র্যা’তন দমন আইনে মামলাটি করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শিশুটির বোনের স্বামীর সহায়তায় তার শ্বশুর শিশুটিকে ধ’র্ষণ করেন, যা তার শাশুড়ি ও ভাসুর জানতেন। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশুটিকে হ’ত্যা’চেষ্টা চালানো হয়। মামলায় শিশুটির বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাসুরকে আ’সা’মি করা হয়েছে, যারা আগেই পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।
চার মাস আগে শিশুটির বড় বোনের বিয়ে হয়। ওই বাড়িতে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী ও ভাসুর বসবাস করতেন। অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বড় বোনকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন তার শ্বশুর, যা পরিবারের সদস্যরা জানতেন এবং এ নিয়ে ঝগড়াও হয়।
১ মার্চ আট বছরের শিশুটি বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ৫ মার্চ রাতে সে তার বড় বোন ও দুলাভাইয়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল। রাত আড়াইটার দিকে দুলাভাই দরজা খুলে দিলে শ্বশুর শিশুটির মুখ চেপে ধরে অন্য কক্ষে নিয়ে ধ’র্ষণ করেন। শিশুটি চিৎকার করলে তার গলা চেপে ধরা হয় এবং পরে তাকে বড় বোনের কক্ষের মেঝেতে ফেলে রেখে যান।
সকালে শিশুটি বড় বোনকে জানালে তার স্বামী ফোন কেড়ে নিয়ে বিষয়টি চেপে যেতে বলার পাশাপাশি মা’র’ধ’র করে। শিশু ও তার বড় বোনকে আলাদা দুটি কক্ষে আ’টকে রাখা হয়।
পরদিন সকালে এক নারী প্রতিবেশী এলে শিশুটির ভাসুর দরজা খুলে দেয়। শিশুটিকে মাথায় পানি দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়। পরে অসুস্থ শিশুটিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার শাশুড়ি চিকিৎসকদের জানান যে শিশুটিকে ‘জিনে ধরেছে’। তবে চিকিৎসকরা বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং শাশুড়ি হাসপাতাল থেকে পা’লিয়ে যান।
পরে শিশুটির মা হাসপাতালে গিয়ে মামলা দায়ের করেন।