শিল্পোদ্যোক্তা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী আর নেই
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী (৮৩) আর নেই (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। বুধবার সকালে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এবং রাজনীতিবিদরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এপেক্স গ্রুপের এক কর্মকর্তা জানান, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার লাশ রাতেই সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনা হয় এবং গুলশানের বাসায় রাখা হয়েছে।
আজ সকালে সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর লাশ ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে স্ত্রী নিলুফার মঞ্জুরের কবরে তাকে দাফন করা হবে।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে ভর্তি করা হয়েছিল। তার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ ব্যবসায়ী মহল শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, ঢাকা চেম্বার এবং মেট্রোপলিটন চেম্বারও শোক প্রকাশ করেছে।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বাংলাদেশের এপেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তা, গ্রে অ্যাডভারটাইজিং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ১৯৭২ সালে চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নামেন এবং ১৯৭৬ সালে এপেক্স ট্যানারি প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে এপেক্স ফুটওয়্যার হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
১৯৯৬ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, ২০০১ সালে কৃষি, নৌপরিবহণ, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী ১৯৪২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা স্যার সৈয়দ নাসিম আলী কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক ছিলেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন।
মঞ্জুর এলাহী দেশের ব্যবসায়, সমাজসেবা এবং রাজনীতিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন এবং তার মৃত্যু দেশবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।